Ajker Patrika

প্রথম পরীক্ষামূলক মস্তিষ্কের ক্যানসার চিকিৎসা নেওয়া রিচার্ডের মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্রথম পরীক্ষামূলক মস্তিষ্কের ক্যানসার চিকিৎসা নেওয়া রিচার্ডের মৃত্যু
রিচার্ড স্কোলিয়ার। ছবি: বিবিসি

অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা চিকিৎসক ও ক্যানসার গবেষক অধ্যাপক রিচার্ড স্কোলিয়ার মারা গেছেন। আক্রমণাত্মক মস্তিষ্কের ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত হওয়ার প্রায় তিন বছর পর ৫৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্কোলিয়ার বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন যখন তিনি নিজের ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও নজিরবিহীন পরীক্ষামূলক চিকিৎসা প্রয়োগে সম্মতি দেন। এই চিকিৎসা পরিচালনা করেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও বন্ধু অধ্যাপক জর্জিনা লং। চিকিৎসাটি ছিল ত্বকের ক্যানসার মেলানোমা নিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

মেলানোমা চিকিৎসায় স্কোলিয়ার ও লংয়ের অবদান বিশ্বব্যাপী বিপ্লব ঘটিয়েছে। তাঁরা দেখিয়েছেন, ইমিউনোথেরাপি—যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করে—উন্নত পর্যায়ের মেলানোমা রোগীদের জীবনরক্ষা করতে পারে। একসময় যেখানে এ ধরনের রোগীদের বেঁচে থাকার হার ছিল ১০ শতাংশেরও কম, এখন প্রায় অর্ধেক রোগী কার্যত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

২০২৩ সালে স্কোলিয়ার বিশ্বের প্রথম মস্তিষ্কের ক্যানসার রোগী হিসেবে অস্ত্রোপচারের আগে সমন্বিত ইমিউনোথেরাপি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তাঁর টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি একটি ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়। যদিও চিকিৎসকেরা জানতেন সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, তবু তাঁরা আশা করেছিলেন যে এই চিকিৎসা তাঁর জীবন দীর্ঘায়িত করবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার পথ খুলে দেবে।

পরবর্তী স্ক্যানে ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।

২০২৪ সালে স্কোলিয়ার ও লং যৌথভাবে ‘অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হন। মেলানোমা ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়ার সহ-পরিচালক হিসেবে তাঁরা অসংখ্য রোগীর জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রেখেছেন।

মৃত্যুর আগে লেখা এক খোলা চিঠিতে স্কোলিয়ার বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ভবিষ্যৎকে আরও ভালো করার চেষ্টা করা।’ তিনি তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তাঁর ক্যানসারের যাত্রাপথে পাশে ছিলেন।

একই সঙ্গে তিনি বিজ্ঞানীদের সাহসী ও অনুসন্ধিৎসু থাকার আহ্বান জানান এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারগুলোর প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘ক্যানসার গবেষণাকে এগিয়ে নিতে আমাদের সীমা অতিক্রম করতেই হবে।’

রিচার্ড স্কোলিয়ার শুধু একজন খ্যাতিমান চিকিৎসকই নন, বরং বিজ্ঞান ও মানবকল্যাণে আত্মনিবেদিত এক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত