Ajker Patrika

শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কী করবেন

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন
শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কী করবেন

কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো—

  • মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্নতা।
  • অনেকক্ষণ শুয়ে-বসে থাকা, শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকা।
  • পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া।
  • নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল না খাওয়া।
  • অনিদ্রা।
  • শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী পানি ও অন্যান্য তরল পান না করা।
  • চা-কফি, ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া খাবার বেশি খাওয়া।
  • খারাপ খাদ্যাভ্যাস।
  • আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য যে খাবারগুলো উপকারী

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সঠিক খাবার ব্যবস্থাপনা প্রধান ভূমিকা পালন করে। আঁশসমৃদ্ধ যেকোনো খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

  • খোসাসহ গোটা ফলে যথেষ্ট আঁশ থাকে। যেমন আপেল, পাকা কলা, নাশপাতি, আঙুর ইত্যাদি।
  • পাকা পেঁপে, পাকা বেলের শরবত, অ্যালোভেরা জুস—এই ধরনের খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যে ওষুধের মতো কাজ করে।
  • সব ধরনের শাক এ সময় বেশি বেশি খেতে হবে।
  • বিভিন্ন সবজির মধ্যে ঢ্যাঁড়স, পেঁপে, ফুলকপি, পাতাকপি এবং কচুরলতি বেশ উপকারী।
  • পরিপাকতন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত টক দই খেতে হবে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে খুবই জরুরি।
  • দিনে দুই থেকে তিনবার তোকমার দানা, ইসবগুলের ভুসি বা চিয়া সিডস খাওয়া খুব উপকারী।
  • পানির চেয়ে গাঢ়; যেমন টক দই, বেলের শরবত, পেঁপের শরবত, অ্যালোভেরা জুস, আখের রস ইত্যাদির মতো তরল পান করতে হবে। এসব খাওয়ার ফলে বৃহদন্ত্রে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মল শরীর থেকে পানি শোষণ করে নিজে নরম থাকবে।
  • আয়রন ও ক্যালসিয়াম-জাতীয় ওষুধ সেবন বন্ধ করে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
  • পান্তা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে বেশ কার্যকরী।
  • শর্করা হিসেবে লাল আটা, লাল চাল—এগুলোকে খাবার তালিকায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে যেসব খাবার পরিত্যাগ করা ভালো

সঠিক খাদ্যাভ্যাসই যেহেতু কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান চিকিৎসা। তাই কিছু খাবার বাদ দিতে হবে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে। সেগুলোর মধ্যে আছে—

  • কম আঁশযুক্ত খাবার; যেমন কাঁচা কলা, ময়দার তৈরি খাবার।
  • চা-কফি, পিৎজা, ফাস্ট ফুড, চিপস, চকলেট, তেলে ভাজাপোড়া খাবার।
  • গরু বা খাসির মাংস।
  • রান্নায় মসলার পরিমাণ কমাতে হবে। ভাজি বা ভুনা খাবার বাদ দিতে হবে।
  • মুড়ি, চিড়া, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, নুডলস কিংবা পাস্তার মতো খাবার পরিহার করতে হবে।

কখন আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পরেও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘস্থায়ী হয়, মলের সঙ্গে রক্ত যায় এবং মলদ্বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আর দেরি না করে অবশ্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, মলদ্বার দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

জটিলতা

কোষ্ঠকাঠিন্য এক থেকে তিন মাসের বেশি স্থায়ী এবং ঘন ঘন হলে, পায়খানার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পাইলস, অ্যানাল ফিশার, মলদ্বার বের হয়ে আসা, পেট ফাঁপা বা অরুচির মতো কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া রক্তস্বল্পতা, অবসাদ, অনিদ্রা, চোখে ব্যথা, চোখের নিচে কালি পড়া, মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য

দূর করা খুব সহজ। এ সময় বাজারে প্রচুর শাক ও সবজি পাওয়া যায়; যেগুলো মূলত আঁশযুক্ত। নিয়মিত সেসব খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং সুস্থ থাকুন।

পরামর্শ দিয়েছন: মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

দুবাই পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশ, মোদির প্রত্যাশা

রাইস কুকার ব্যবহারের ভুল ও সতর্কতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত