Ajker Patrika

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৪৫ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৪৫ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন
প্রতীকী ছবি

বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতা জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় এ দুটি সমস্যার পারস্পরিক সম্পর্ক উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আনুমানিক দেড় কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে বিষণ্নতা যুক্ত হলে রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাপন, চিকিৎসা অনুসরণ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকার কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ফলে শারীরিক ও মানসিক—উভয় স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (সিএইচআরআই) আয়োজিত ডায়ামেড প্রকল্পের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের জনস্বাস্থ্য ও মনোরোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. নাজমা সিদ্দিকী।

গবেষণায় বলা হয়, বিহেভিয়ারাল অ্যাকটিভেশন মূলত একটি মনোসামাজিক চিকিৎসাপদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রতি সাত দিন পরপর মোট ছয়টি কাউন্সেলিং সেশন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক ও অর্থবহ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে সহায়তা করা হয়। প্রশিক্ষিত নার্স, পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য–শিক্ষা কর্মীরাও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা নিয়ে এ থেরাপি দিতে পারেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় যথাযথভাবে বিহেভিয়ারাল অ্যাকটিভেশন প্রয়োগ করা হলে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু তাৎক্ষণিক মূল্যায়নেই নয়, ছয় মাস ও ১২ মাস পরের মূল্যায়নেও অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বিষণ্নতা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়। বিশেষজ্ঞ মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা এবং চিকিৎসার ব্যয়ও এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বিহেভিয়ারাল অ্যাকটিভেশন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে প্রাথমিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত