সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের অসংখ্য সংবাদ দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সারা দেশে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-প্রতিবাদ মিছিলও করছে। এরই মধ্যে দেশে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার এক শিশুর মা লাশের পাশে বিলাপ করছেন— এমন দাবিতে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে প্রায় একই ক্যাপশনে ছড়ানো হয়েছে। ভিডিওতে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে একটি মেয়ে শিশুকে নিথর পড়ে থাকতে দেখা যায়। শিশুটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে অনেক লোক। একজন নারী শিশুকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছেন।
‘মোঃ নুরহোসেন আরিফ’ নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৯ মার্চ রাত ১০টা ১ মিনিটে পোস্ট করা ভিডিওটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা, ‘ধ’র্ষ’ণের পর শিশুকে হ’ত্যা, মায়ের আর্তনাদ।’ (বানান অপরিবর্তিত)
মাত্র ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি আজ সোমবার (১৭ মার্চ) বেলা ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ৩ লাখ ২৯ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং পোস্টটিতে ১ হাজার ৭০০টি রিঅ্যাকশন পড়েছে। পোস্টটিতে ১৪৬টি কমেন্ট পড়েছে এবং শেয়ার হয়েছে ১ হাজার ৪০০। কমেন্টে এটি বাংলাদেশের ঘটনা উল্লেখ করে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
‘Md. Rasel Mia Akash’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে হচ্ছে টা কি বাংলাদেশে কি কোনো আইন নাই নাকি।’ (বানান অপরিবর্তিত)। ‘Uching Sai Marma Jony’ লিখেছে, ‘কি একটা আজব বাংলাদেশ হলো। কেউ আছে রাজনৈতিক নিয়ে ব্যস্ত আর কেউ নিজের মা বোনের ধর্ষনের করার ব্যস্ত। আমরা কোন দেশে বসবাস করছি। কিসের স্বাধীন দেশ।’ (বানান অপরিবর্তিত)
‘মোঃ নাজমুল ইসলাম রাব্বি’, ‘Habiba Binte Mumin’ এবং ‘Joynal Abdin Nc’ নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ক্যাপশনে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে।
ভিডিওটির কিছু কি–ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে Md Rahat নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওটি গত ৬ মার্চ প্রকাশিত। ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

ভিডিওটির ক্যাপশনে রোমান হরফে লেখা, ‘সিসিয়া পুরব তোলা আজমঞ্জর পার খন্ড।’
এই ভিডিওটির কমেন্টে Anwar Alif নামে একজন রোমান হরফে হিন্দি ভাষায় কমেন্ট করে ঘটনার স্থান ও সময় জানতে চান। এই কমেন্টের রিপ্লাইয়ে MD Meraj Ahmad Qadri নামে একজন লিখেছেন, ‘ঘটনা সিসিয়া গ্রামের, এটি আজম নগরের মধ্যে পড়ে।’
Shahbaz Alam নামে আরেকজন রোমান হরফে হিন্দি ভাষায় ঘটনাস্থলের কথা জিজ্ঞাসা করলে Subhan Ali Subhan Ali নামে অ্যাকাউন্ট থেকেও একই জায়গার কথা জানান।

Md Rahat নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহারে বসবাস করেন।
মো. রাহাত তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও গত ৬ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশ করেন।
একই ক্যাপশন ও একই জায়গার নাম উল্লেখ করে একাধিক ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব ব্যবহারকারী (১, ২, ৩, ৪) ভিডিওটি পোস্ট করেছেন।
পরবর্তীতে ‘সিসিয়া পুরব তোলা আজমঞ্জর’ লেখাটি গুগলে সার্চ করে জানা যায়, সিসিয়া হচ্ছে ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার আজমনগর মহাকুমার একটি গ্রাম।
এসব তথ্যসূত্র গুগলে সার্চ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক প্রভাত খবর–এ গত ৬ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

সংবাদটি গুগলের সাহায্যে বাংলায় ভাষান্তর করে জানা যায়, গত ৬ মার্চ বিহারের আজমনগর থানা এলাকার নিমোল পঞ্চায়েতের একটি গ্রামে ভুট্টা খেত থেকে ১২ বছরের এক কিশোরীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ পাওয়া যায়। এলাকাবাসী আজমনগর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাটিহার সদর হাসপাতালে পাঠায়। কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, গত ৫ মার্চ বিকেলে সে ঘাস কাটতে মাঠে গিয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে স্বজনরা। পরদিন (৬ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনে ভুট্টা খেতে তার অর্ধনগ্ন এবং ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া যায়।
গত ৭ মার্চ একই তথ্যে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দৈনিক ভাস্কর ও লাইভ হিন্দুস্তানেও প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
সুতরাং, শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা ও মায়ের আহাজারির যে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেটি বাংলাদেশের ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, সেটি বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার আজমনগর মহাকুমার সিসিয়া গ্রামে এক কিশোরীকে হত্যা করে ভুট্ট খেতে ফেলে রাখা ঘটনার ভিডিও।

‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১৭ ঘণ্টা আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
২ দিন আগে
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
৩ দিন আগে