Ajker Patrika

‘ছেলের সামনে থেকে মাকে তুলে নিয়ে যাওয়া’র ভিডিওটি ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বানানো

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
‘ছেলের সামনে থেকে মাকে তুলে নিয়ে যাওয়া’র ভিডিওটি ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বানানো
স্কুলপড়ুয়া ছেলের সামনে থেকে মাকে অপহরণ ও ধর্ষণের দাবিতে প্রচারিত ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

একজন মা স্কুল থেকে সন্তানকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে ‘জুলাই মব’ সন্ত্রাসীরা ছেলেকে ধাক্কা মেরে মাকে ধর্ষণ করার জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এই দাবিতে গতকাল ৯ জুন ফেসবুকে একই ভিডিও ‘Wahidur Rahman Jithu’, ‘Shipon Islam’, ‘বিজয় একাত্তর ’, ‘Abdul Malik’ ‘শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ ধন্য’, ‘আমি আওয়ামী লীগ’ এবং ‘Allhaz Md Nazim Uddin’ ’-সহ অন্তত ৩০টিরও বেশি অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে।

‘Allhaz Md Nazim Uddin’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখা হয়, ‘কে দেবে এই সব এর নিরাপত্তা? একজন মা স্কুল থেকে তার সন্তানকে নিয়ে বাসায় ফিরার সময় পথে সন্ত্রাসীরা ছেলেকে ধাক্কা মেরে মাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে ধর্ষণ করার জন্য!! হায়রে বাংলাদেশ.!!! দেখুন সুশীলরা !!’ (ভাষা ও বানান অপরিবর্তিত)

শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য মনে করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে বলে কমেন্ট করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাস্তার পাশ দিয়ে একজন নারী ও স্কুলব্যাগ পিঠে একটি বালক পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে। এ সময় একটি অটোরিকশা থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে আসেন এবং ওই নারীকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বালকটির ব্যাগ পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নারীটিকে অটোরিকশায় তুলে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় এক পথচারীকে অটোরিকশাটিকে থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। অটোরিকশার পেছনের রড ধরে ঝুলে পড়েন তিনি। ওই অবস্থায়ই অটোরিকশাটি চলতে থাকে। আর দুই কথিত অপহরণকারী ওই ব্যক্তিকে লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকেন।

ভিডিওর দৃশ্য ও দাবিটি সংবেদনশীল হলেও, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্কুলপড়ুয়া সন্তানের সামনে থেকে মা অপহরণ ও ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো তথ্য জাতীয় কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

পরে অনুসন্ধানে ‘Muklesur Bhaijaan 2.0’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গতকাল ৯ জুন প্রকাশিত একাধিক ( , ) ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘Ramdam muklesur Bhaijaan Ko mara chapri na 🤬 please help 😭’ ও ‘z900 vs chapri ramdana ak girl ka mara’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই ভিডিওগুলোর দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

Muklesur Bhaijaan 2.0 ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
Muklesur Bhaijaan 2.0 ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

ওই চ্যানেলের ডিসক্রিপশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে স্পষ্ট করে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে—‘আমার চ্যানেলের সব ভিডিও বিনোদনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ও স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী তৈরি করা হয়। প্রতিটি কনটেন্টে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য প্রদর্শিত হয়, তাই অনুগ্রহ করে এগুলো দেখে কেউ কষ্ট বা বিরক্ত বোধ করবেন না।’

Muklesur Bhaijaan 2.0 ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
Muklesur Bhaijaan 2.0 ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

এ ছাড়া, এই ইউটিউব চ্যানেলটি ভারত থেকে পরিচালিত হয় বলেও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ওই ইউটিউব অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া ফেসবুক লিংক ধরে অনুসন্ধানে ‘Muklesur Ali’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়, সেখানেও একই (, ) ভিডিও পাওয়া যায়। ওই অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুযায়ী, এর কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বাসিন্দা।

Muklesur Ali নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
Muklesur Ali নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

অ্যাকাউন্টটিতে শেয়ার করা ভিডিওর উপস্থাপনা, অভিনয় এবং ক্যামেরার কাজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি সামাজিক সচেতনতা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভারতে নির্মিত একটি সাজানো নাটক। পাশাপাশি এসব ভিডিওর কোথাও ধর্ষণ ও অপহরণের কথাও উল্লেখ নাই।

কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট
কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট

এ ছাড়া বাংলাদেশে যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে ওই ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়—এগুলো নিয়মিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলতি কনটেন্ট প্রকাশ করে থাকে। এর আগেও আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম এসব অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত একাধিক (, , ) দাবিকে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করেছে।

সিদ্ধান্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের একটি সাজানো ভিডিওকে সম্প্রতি বাংলাদেশে অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টা বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত