
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন।
গত ২৭ জুলাই ‘Kuldeep Jatav’ নামের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করা হয়। আলোচিত দাবিতে হিন্দি ভাষায় শেয়ার করা ওই পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পর অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।’
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ‘এই সেই অভিজিৎ, যাকে বিমানবন্দরে “বামন” বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। এই সেই অভিজিৎ, যার হত্যার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন এবং সরকারের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।’
ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক (১, ২ ) মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনেকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘সে পালিয়ে গেল কেন? তার তো এখানেই থাকা উচিত ছিল। ভয়ে পালিয়ে গেছে সে।’
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে অভিজিৎকে অন্যদের সঙ্গে দেখা যায়। পরে ভিডিওর কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘CJP Cockroach Janta Party’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৫ জুন শেয়ার করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘Cockroach Janta Party के फाउंडर अभिजीत दीपके प्रोटेस्ट के लिए पहुचे जयपुर’ (প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জয়পুরে পৌঁছেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে) ক্যাপশনে শেয়ার করা ওই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি রাজস্থান’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গেও আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।
গত ১৫ জুন প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে পরীক্ষায় অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নিতে জয়পুর পৌচেছেন। জয়পুরে পৌঁছে দীপকে জানান, তারা প্রশাসনের আরোপিত সব শর্ত মেনেই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করবেন। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল পরীক্ষায় অনিয়মের বিচার, বেকারত্বের সমাধান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

অভিজিৎ দীপকের অবস্থান ও ভারত ছাড়ার সত্যতা জানতে আরও অনুসন্ধান করা হলে বার্তা সংস্থা এএনআই-এর গত ২৯ জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে জানা যায়, আন্দোলন স্থগিত করার পর অভিজিৎ মহারাষ্ট্রে অবস্থিত তাঁর নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ২৬ জুলাই এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ সিজেপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমরা শীঘ্রই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব। আন্দোলন তো মাত্র শেষ হলো, আমাদের একটু সময় দিন।’ অর্থাৎ তিনি ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাননি।

উল্লেখ্য, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। চলতি বছরের মে মাসে তিনি অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পাটি’ (সিজেপি) গঠন করেন, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবি মেনে নেয়। এরপর ২৫ জুলাই আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ভারত ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন—দাবিটি ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, জয়পুর বিমানবন্দরে গত জুনের একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

‘আমরা বিদ্যুৎ দিয়েছি, এবার আপনারা বিদ্যুৎ বিল দিবেন’—বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নামে এমন একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে...
৬ ঘণ্টা আগে
আজ ১ আগস্ট ‘ডেইলি রিপোর্ট’ নামের একটি ফেসবুক পেজসহ একাধিক আইডি ও পেজ (১ , ২ , ৩ , ৪ ) থেকে আলোচিত ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি পোস্টের স্বল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে এবং বহু ব্যবহারকারী এটি শেয়ার করেছেন। আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়...
১ দিন আগে
বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে ভারতে এক রোগীকে চিকিৎসক মারধর করছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে‘চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে’—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে প্রচারিত এই দাবিটি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে