ফ্যাক্টচেক /মসজিদ নির্মাণে জমি দানের দাবিটি ভুয়া, স্পষ্ট করলেন সানিয়া মির্জার বাবা

হায়দরাবাদে মসজিদ নির্মাণে জমি দান করেছেন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। নির্মাণের সম্পূর্ণ ব্যয়ও বহন করবেন তিনি—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট রয়েছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
আলোচিত দাবিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। গত ৩০ অক্টোবর বেলা ১২টা ৪৪ মিনিটে শেয়ার করা ওই ফটোকার্ডে ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৬০০ রিয়েকশন, ১ হাজার ৪০০ কমেন্ট ও ১ হাজার ১০০ শেয়ার দেখা যায়।
পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য মনে করে কমেন্ট করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে আলোচিত দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানে ‘Muhammad Tanweer’ নামের একটি ভারতীয় প্রোফাইলে গত ২৮ অক্টোবর শেয়ার করা একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। হিন্দি ভাষায় ‘সানিয়া মির্জার মহৎ উদ্যোগ! মসজিদের জন্য টেনিস সেন্টারের জমি ওয়াক্ফ, নির্মাণের পুরো খরচ বহনের ইচ্ছা প্রকাশ’ শিরোনামে শেয়ার করা ওই পোস্টে দাবি করা হয়, সানিয়া মির্জা মসজিদ নির্মাণের জন্য তাঁর একটি জমি ওয়াক্ফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নির্মাণের পুরো খরচ বহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পোস্টটিতে বলা হয়, সানিয়া মির্জার শপিং সেন্টারের আশপাশে কোনো মসজিদ ছিল না। ফলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে নামাজ আদায় করতে প্রায় ৪০ মিনিট হেঁটে যেতে হতো। এই সমস্যার কথা সানিয়া মির্জার নজরে আসার পর তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য তাঁর একটি খালি জমি ওয়াক্ফ করার সিদ্ধান্ত নেন। ওই জমিতে আগে একটি টেনিস প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
আরও দাবি করা হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ হওয়ার পর মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এ সময় ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। সানিয়া মির্জা মসজিদ নির্মাণের পুরো খরচ বহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেও পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে একই দাবিতে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি পোস্টে ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়। ছবিটি যাচাই করতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’-এর সহায়তা নেওয়া হয়। টুলটির বিশ্লেষণে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

পরে আলোচিত দাবির বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘irfanistan’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ৩০ অক্টোবর ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত একটি পোস্টপাওয়া যায়। পোস্টটির শিরোনাম ছিল, ‘ভুয়া খবর থেকে সাবধান!’ এতে সানিয়া মির্জাকে নিয়ে ছড়ানো খবরের বিষয়ে তাঁর বাবা ইমরান মির্জার বক্তব্য দাবিতে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরা হয়।
পোস্টটিতে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়। প্রথমত, সানিয়া মির্জা ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি। দ্বিতীয়ত, সানিয়া মির্জার টেনিস একাডেমি যে জমিতে নির্মিত হয়েছে, সেখানে কোনো মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে না। তৃতীয়ত, সানিয়া মির্জা অতীতে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোনো সামাজিক বা জনকল্যাণমূলক কাজ করলে, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি নিজে নিশ্চিত না করলে এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে প্রচার করা উচিত নয় বলেও পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে সানিয়া মির্জার বাবা ইমরান মির্জার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও একই বক্তব্যের পোস্ট পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ‘Sania Mirza breaks silence over viral mosque land donation claims’ শিরোনামে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hungama Express-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সানিয়া মির্জা মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিকে তাঁর বাবা মিথ্যা বলেছেন। সানিয়ার টেনিস একাডেমির জমিতে মসজিদ নির্মাণের দাবিও তিনি নাকচ করেছেন। এ ছাড়া, প্রতিবেদনটিতে ইমরান মির্জার শেয়ার করা পোস্টের একটি স্ক্রিনশট রয়েছে। একই পোস্ট সানিয়া মির্জার নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ারেরও স্ক্রিনশট পাওয়া যায়।

এ ছাড়া, এ বিষয়ে প্রকাশিত আরও কয়েকটি (১, ২, ৩ ) ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
সিদ্ধান্ত
সানিয়া মির্জা হায়দরাবাদে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেছেন এবং নির্মাণের পুরো ব্যয় বহন করবেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি সঠিক নয়।









