
বাংলাদেশে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গত সোমবার পতন ঘটেছে আওয়ামী লীগ সরকারের। প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে নীরবে দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই কার্যত ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ মন্দির–বসতবাড়ি ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা। এসবের মধ্যে কিছু ঘটনা সত্য যেমন আছে, তেমনি ছড়িয়ে পড়েছে গুজব, ভুল তথ্যও।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের পতিত ও খণ্ডিত অংশ শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে শেখ হাসিনার পতনের পর ভাঙচুরের শিকার হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্য।
এক্সে (সাবেক টুইটার) ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা তরুণ জ্যোতি তিওয়ারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের একটি ভিডিও আজ বুধবার (৭ আগস্ট) শেয়ার করে লেখেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে বাংলাদেশের কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করার ছিল কি? লজ্জা...এরা নাকি আবার নিজেদের বাঙালি বলে দাবি করে!’
একই ভিডিও ফেসবুকেও সাম্প্রতিক ঘটনার দাবিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
আবার বাংলাদেশ নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের একটি খণ্ডিত অংশের ছবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ পোস্ট করে লিখেছেন, ‘যে মবকে পুলিশ বা আর্মি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই মবকে নিয়ন্ত্রণ কে করবে? যে “জাগ্রত ছাত্র জনতা” রবীন্দ্রনাথের গান গেয়ে মানুষকে মুগ্ধ করেছিল, সেই জাগ্রত ছাত্র জনতা রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য ভেঙ্গে গুঁড়ো করেছে। তাহলে ওই গান ছিল লোক দেখানো? ছিল “ভুয়া”?’
সাম্প্রতিক ঘটনা বলে দাবি করে একই ছবি এক্সেও ছড়িয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের সেই ছবি যাচাই
আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগের অনুসন্ধানে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের একটি খণ্ডিত অংশের ভাইরাল ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ছবিটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির। ওই সময় আজকের পত্রিকায় ‘ময়লার ভাগাড়ে মিলল রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্যের ছিন্নভিন্ন অংশ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেন্সরশিপের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী।
ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পরে মুখে টেপ ও পেরেকবিদ্ধ গীতাঞ্জলি হাতে রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন তাঁরা। এক পর্যায়ে ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ভাস্কর্যটির বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কর্যের খণ্ডিত অংশের সাম্প্রতিক ভাইরাল ছবিটি ওই ঘটনার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পতিত ভাস্কর্যের ভিডিও যাচাই
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পতিত ভাস্কর্যের সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিওটিতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর লোগো দেখা যায়। এই সূত্রে অনুসন্ধানে সংবাদপত্রটির ইউটিউব চ্যানেলে ভাইরাল ভিডিওটি পাওয়া যায়।

চ্যানেলটিতে ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওটির ২৯ সেকেন্ড সময় থেকে ১ মিনিট পর্যন্ত সময়ের ফুটেজের সঙ্গে সম্প্রতি ভাইরাল ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একদল শিক্ষার্থী রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্যটি রাজু ভাস্কর্যের পাশে স্থাপন করছেন।
অর্থাৎ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পতিত ভাস্কর্যের দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৩ সালের। ওই সময় ঢাবির একদল শিক্ষার্থী ভাস্কর্যটি যখন স্থাপন করছিলেন সেই সময় সেটি ধারণ করা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের একুশে বইমেলার সময় সারা দেশে স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বইমেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না, বিতর্কিত বই উল্লেখ করে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে–এমন অভিযোগ এনে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ভাস্কর্য স্থাপন করেন ঢাবির চারুকলার একদল শিক্ষার্থী। এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীরাও। বইমেলার সময়জুড়ে এই ভাস্কর্য থাকার ঘোষণাও দিয়েছিলেন আয়োজকেরা। বাঁশ, থার্মোকল ও কাগজ মুড়িয়ে চার ফুট বেদিসহ এই ভাস্কর্য তৈরি করা হয়।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাতে ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো সেই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য।
২ দিন আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটোরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবিতে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে এ ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র চালানোর দৃশ্য-সংবলিত একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে এটিকে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
৩ দিন আগে
‘Mohammad Asif Uddin’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বাবার চোখের সামনেই বিএনপির সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার ছাত্রলীগ কর্মী! মনে রেখো বাংলাদেশ।’
৪ দিন আগে