Ajker Patrika

ঈদের নামাজ শেষে আ.লীগ নেতাকে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১৫: ৫৭
ঈদের নামাজ শেষে আ.লীগ নেতাকে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের
রাজধানীতে ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী লীগ নেতাকে জবাই করে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

রাজধানীতে ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

শেয়ার করা এসব ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, রাজধানীতে ঈদের নামাজ শেষে গরু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে প্রকাশ্যে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে’ বিএনপির সন্ত্রাসীরা। ক্যাপশনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিহত ব্যক্তি মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান এবং ঈদের আগের দিন নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে পরবর্তীকালে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাঁর নিজ বাসভবনের সামনে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে।

আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে

Habibur Rahman Sazal’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা পোস্টটি আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। গত ২৮ মে শেয়ার করা ওই ভিডিওটি ২ জুন দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৩৪ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। পোস্টটিতে ২ হাজার ১০০ রিঅ্যাকশন ও ২৫১ কমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি শেয়ার হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ বারের বেশি।

বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, ‘বিএনপি মনে রাখিস, এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফিরলে কেয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হবে ইনশাআল্লাহ এবং বাংলার জমিনে তোদের কে আর থাকতে দেবো মনে রাখিস।’

শেয়ার করা ভিডিওর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেশির ভাগ কমেন্টকারী আলোচিত দাবিকে সত্য মনে করে কমেন্ট করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ভিডিওটি প্রথমে পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এ সময় ভুক্তভোগী কিছু বলার চেষ্টা করলেও আশপাশের অনেক শব্দের কারণে তা স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। ঘটনাস্থলে হামলাকারীর পাশে আরও একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সামগ্রিকভাবে ভিডিওটি দেখে ধারণা করা যায়, ঘটনাটি আড়ালে উঁচু কোনো স্থান থেকে ধারণ করা হয়েছে।

তবে ভিডিওতে ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজধানীর বলা হলেও, ঢাকার কোন এলাকায় এবং কবে এই ঘটনা ঘটেছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ভিডিওতে বা শেয়ার করা অ্যাকাউন্টগুলোর কোথাও পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমেও আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা খবরের অস্তিত্ব মেলেনি।

পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ‘gallinews_com’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২ জুন শেয়ার করা ওই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা ভিডিওর হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। ওই পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের মুম্বাইয়ের অ্যান্টপ হিল এলাকার একটি হত্যাকাণ্ড, যেখানে কালওয়ার বাসিন্দা শ্রবণ নামের এক যুবক খুন হন।

ভিডিওটিতে আরও বলা হয়, অ্যান্টপ হিলের ফাল্গুনী বিল্ডিংয়ের ভেতরে দুই বন্ধুর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি বা ঝগড়া হয়েছিল, যার জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ডব্লিউটিটি পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন এলাকায় ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই তথ্য পাওয়া যায় ‘Gallinews’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও থেকেও।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে, ‘Antop hill में हुआ Murder’ (বাংলায়—অ্যান্টপ হিলে খুন) শিরোনামে গত বছরের ৩ জুলাই ‘MUMBAI TV’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে দেখানো স্থিরচিত্র ও ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।

মুম্বাই টিভির প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট
মুম্বাই টিভির প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

অর্থাৎ, গত বছর ভারতের মুম্বাইয়ের একটি ঘটনাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আলোচিত দাবিতে যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এটি ছড়ানো হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে একাধিক পোস্ট করেছেন। এসব অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়।

সিদ্ধান্ত

ভারতের মুম্বাইয়ে গত বছর একজনকে কুপিয়ে হত্যার পুরোনো ভিডিওকে সম্প্রতি রাজধানীতে ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির সন্ত্রাসীদের জবাই করে হত্যার ঘটনা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত