Ajker Patrika

সুনামগঞ্জের ‘চোর নির্মূল কমিটি’র অভিযানকে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বলে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
সুনামগঞ্জের ‘চোর নির্মূল কমিটি’র অভিযানকে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বলে প্রচার
খ্রিষ্টান নারীর ওপর ইসলামপন্থীদের হামলার দাবিতে প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

বাংলাদেশে এক খ্রিস্টান নারী নিজের বাড়ি ও ছেলেকে রক্ষা করতে শত শত উগ্র ইসলামপন্থী জনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

Isaac’ নামের একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৩০ মে বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিটে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, যা আলোচিত দাবিতে ভাইরাল ভিডিওর একটি। ভিডিওটি ১০ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ৪ হাজার ৩০০ রিয়্যাকশন ও ১৬১ কমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি ৮৮৯ বার রিপোস্ট করা হয়েছে।

শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেটিজেনদের এক বিরাট অংশ ঘটনাটিকে সত্য মনে করে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

একই দাবিতে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে , এখানে এবং এখানে

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

তবে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে জাতীয় গণমাধ্যম ডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজে ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২৫ মার্চ ‘সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট গ্রামবাসীর’ ক্যাপশনে শেয়ার করা ভিডিওটির প্রথম ৩০ সেকেন্ডের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

ডিবিসি নিউজের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
ডিবিসি নিউজের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে একই দিন জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘চোর নির্মূল কমিটির সভা থেকে ২ “চোরের” বাড়িতে এলাকাবাসীর হামলা-ভাঙচুর’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ ছিলেন গ্রামবাসী। মাঝখানে ‘চোরদের’ কাছ থেকে নেওয়া হয় মুচলেকা। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তাই করণীয় ঠিক করতে গ্রামবাসী বৈঠকে বসেন। ‘চোর নির্মূল কমিটির’ সেই বৈঠক থেকে উত্তেজিত জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান চুরির অভিযোগ ওঠা দুজনের বাড়িতে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট
প্রথম আলোর প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে দেখা যায় একটি টিনের চালা ও বেড়ার ঘরের সামনে মধ্যবয়সী এক নারী দুই বছরের এক শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে হামলা না করার জন্য লোকজনকে অনুরোধ করছেন। তাঁর আরেক হাতে ছিল রাম-দা। কিন্তু লোকজন ওই নারীর কথায় কান না দিয়ে তাঁদের ওপর মুহুর্মুহু ঢিল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে ওই নারী কোল থেকে শিশুটিকে নামিয়ে রাম-দা হাতে জনতার দিকে তেড়ে যান। পরে আরেক ব্যক্তি এসে ওই নারী ও শিশুকে সরিয়ে দেন। এরপর মুহূর্তেই ঘরটি ভেঙে ফেলে লোকজন। এভাবে দুটি ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে হামলা থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করা নারী অভিযুক্ত তারেক মিয়ার স্ত্রী। তবে মানুষের ছোড়া ঢিলে তিনি কিংবা তাঁর শিশুসন্তানের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

এ ছাড়া একই ভিডিও অতীতে ভিন্ন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম সেটিকে ভিত্তিহীন বলে শনাক্ত করে।

সিদ্ধান্ত

সুনামগঞ্জের ছাতকে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তির বাড়িতে গ্রামবাসীদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিওকে বর্তমানে ‘বাংলাদেশে খ্রিস্টান নারী কর্তৃক উগ্র ইসলামপন্থীদের জনতার মুখোমুখি হওয়ার’ ভুয়া দাবি জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত