সবুজ শর্মা শাকিল, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করে দিন ফিরেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মর্জিনা আক্তারের। নিজ প্রচেষ্টায় তিনি বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) তৈরির শেড। আর এ নিয়েই তাঁর সারা দিনের ব্যস্ততা।
মোছাম্মৎ মর্জিনা আক্তার উপজেলার দক্ষিণ মহাদেবপুর নলুয়া পাড়া এলাকার কৃষক অচিয়ত উল্লাহর স্ত্রী। আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এক সময় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দিয়ে অভাব-অনটনে চলতো আমার সংসার। স্বামীর পক্ষে কৃষি কাজ করে পরিবারে সচ্ছলতা আনা সম্ভব হচ্ছিল না।’
শুরুতে টেলিভিশন এবং পত্রিকাতে কেঁচো সারের উপকারিতা দেখে অনুপ্রাণিত হন মর্জিনা। পরবর্তীতে বেসরকারি সংস্থা ইয়ং পাওয়ার অন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) থেকে প্রশিক্ষণ আর ঋণ সহযোগিতা নিয়ে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। তিনি বলেন, ‘ইপসা থেকে প্রথমে আমি কেঁচো সার বিষয়ে কয়েকবার প্রশিক্ষণ নিই। তারপর তাঁদের থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করি।’
শুরুতে ইপসা থেকে তাঁকে রিং, চালুনি, কেঁচোসহ সার তৈরির সকল উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। গত দুই বছর ধরে নিজেদের জমিতে তেমন কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না তাঁদের। পাশাপাশি অবশিষ্ট কেঁচো সার বিক্রিও করছেন মর্জিনা। মাসে প্রায় ৩০০ কেজি সার উৎপাদন করেন। কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা করে মাসে পাঁচ হাজারের বেশি টাকা আয় হয় তাঁর।
মর্জিনা আরও বলেন, কেঁচো সার উৎপাদনে প্রতিটি রিং স্ল্যাবে প্রায় দুই হাজার কেজি গোবর, শাক-সবজির উচ্ছিষ্টাংশ, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও কলাগাছ টুকরো টুকরো করে কেটে মেশানোর পর এখানে ছেড়ে দেওয়া হয় ৪-৫ হাজার কেঁচো। তারপর বস্তা দিয়ে রিং স্ল্যাব ঢেকে রাখা হয়। এতে মোট খরচ হয় প্রায় এক হাজার টাকা। এই সার উৎপাদন হতে এক মাসের বেশি সময় লাগে। মাসে উৎপাদন হয় ২০ মণ সার। উৎপাদনের পাশাপাশি কেঁচোর বংশবিস্তারও হচ্ছে। প্রতিটি কেঁচো ৫০ পয়সা হিসেবে বিক্রি করেও তাঁর আয় হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘যে হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, তাতে সবজি চাষ করে লাভ হয় না। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো সার ব্যবহার করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন ও কুমড়ার চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ আজকের পত্রিকাকে জানান, কেঁচো সার একটি পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রাকৃতিক জৈব সার। কেঁচো সার একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক তেমনি মাটির পুষ্টিগুণ রক্ষার্থে অধিক মূল্যবান। কেঁচো সার ব্যবহারে মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ ফিরেয়ে আনা যায়। ফসল উৎপাদনও অনেক ভালো হয় বলে সীতাকুণ্ডের কৃষকদের কেঁচো সারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে নারীরা।
ইপসার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হানিফ সজিব বলেন, কেঁচো স্যার উৎপাদনে শুরুতে অনাগ্রহ থাকলেও বর্তমানে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মর্জিনা আক্তারের মতোই ইপসা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন সীতাকুণ্ডের শতাধিক নারী। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর সবাইকেই সার উৎপাদনে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে ইপসা।
তিনি আরও বলেন, ‘কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী সকলকে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কেঁচো দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার দশজন খামারির মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের ৪টি ইউনিয়নে ৪৩০টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করেছে ইপসা। তাঁর মধ্যে আমাদের অধিকাংশ প্রদর্শনীতে কেঁচো এবং কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। কেউ যদি কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হয় তাহলে আমরা তাঁদের ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে সহযোগিতাসহ বিনা মূল্যে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’

কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করে দিন ফিরেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মর্জিনা আক্তারের। নিজ প্রচেষ্টায় তিনি বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) তৈরির শেড। আর এ নিয়েই তাঁর সারা দিনের ব্যস্ততা।
মোছাম্মৎ মর্জিনা আক্তার উপজেলার দক্ষিণ মহাদেবপুর নলুয়া পাড়া এলাকার কৃষক অচিয়ত উল্লাহর স্ত্রী। আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এক সময় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দিয়ে অভাব-অনটনে চলতো আমার সংসার। স্বামীর পক্ষে কৃষি কাজ করে পরিবারে সচ্ছলতা আনা সম্ভব হচ্ছিল না।’
শুরুতে টেলিভিশন এবং পত্রিকাতে কেঁচো সারের উপকারিতা দেখে অনুপ্রাণিত হন মর্জিনা। পরবর্তীতে বেসরকারি সংস্থা ইয়ং পাওয়ার অন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) থেকে প্রশিক্ষণ আর ঋণ সহযোগিতা নিয়ে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। তিনি বলেন, ‘ইপসা থেকে প্রথমে আমি কেঁচো সার বিষয়ে কয়েকবার প্রশিক্ষণ নিই। তারপর তাঁদের থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করি।’
শুরুতে ইপসা থেকে তাঁকে রিং, চালুনি, কেঁচোসহ সার তৈরির সকল উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। গত দুই বছর ধরে নিজেদের জমিতে তেমন কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না তাঁদের। পাশাপাশি অবশিষ্ট কেঁচো সার বিক্রিও করছেন মর্জিনা। মাসে প্রায় ৩০০ কেজি সার উৎপাদন করেন। কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা করে মাসে পাঁচ হাজারের বেশি টাকা আয় হয় তাঁর।
মর্জিনা আরও বলেন, কেঁচো সার উৎপাদনে প্রতিটি রিং স্ল্যাবে প্রায় দুই হাজার কেজি গোবর, শাক-সবজির উচ্ছিষ্টাংশ, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও কলাগাছ টুকরো টুকরো করে কেটে মেশানোর পর এখানে ছেড়ে দেওয়া হয় ৪-৫ হাজার কেঁচো। তারপর বস্তা দিয়ে রিং স্ল্যাব ঢেকে রাখা হয়। এতে মোট খরচ হয় প্রায় এক হাজার টাকা। এই সার উৎপাদন হতে এক মাসের বেশি সময় লাগে। মাসে উৎপাদন হয় ২০ মণ সার। উৎপাদনের পাশাপাশি কেঁচোর বংশবিস্তারও হচ্ছে। প্রতিটি কেঁচো ৫০ পয়সা হিসেবে বিক্রি করেও তাঁর আয় হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘যে হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, তাতে সবজি চাষ করে লাভ হয় না। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো সার ব্যবহার করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন ও কুমড়ার চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ আজকের পত্রিকাকে জানান, কেঁচো সার একটি পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রাকৃতিক জৈব সার। কেঁচো সার একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক তেমনি মাটির পুষ্টিগুণ রক্ষার্থে অধিক মূল্যবান। কেঁচো সার ব্যবহারে মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ ফিরেয়ে আনা যায়। ফসল উৎপাদনও অনেক ভালো হয় বলে সীতাকুণ্ডের কৃষকদের কেঁচো সারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে নারীরা।
ইপসার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হানিফ সজিব বলেন, কেঁচো স্যার উৎপাদনে শুরুতে অনাগ্রহ থাকলেও বর্তমানে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মর্জিনা আক্তারের মতোই ইপসা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন সীতাকুণ্ডের শতাধিক নারী। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর সবাইকেই সার উৎপাদনে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে ইপসা।
তিনি আরও বলেন, ‘কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী সকলকে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কেঁচো দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার দশজন খামারির মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের ৪টি ইউনিয়নে ৪৩০টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করেছে ইপসা। তাঁর মধ্যে আমাদের অধিকাংশ প্রদর্শনীতে কেঁচো এবং কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। কেউ যদি কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হয় তাহলে আমরা তাঁদের ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে সহযোগিতাসহ বিনা মূল্যে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫