এই নগরের ভোর দেখেই তখন ঘুম ভাঙত প্রীতিলতার। এই নগরেই তাঁর বেড়ে ওঠা, দুরন্ত শৈশব কৈশোর। সে ১০০ বছর আগের কথা। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের অগ্নিযুগ তখন। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিপ্লবের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বীর চট্টলাতে। সেই ঢেউ ঝড় তুলেছিল কিশোরী প্রীতিলতার মনেও।
প্রীতিলতা তখন ড. খাস্তগীর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ১৯১৮ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত নগরীর আসকার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ের একটি বাড়ি ঘিরে তার শৈশবের হাজারো স্মৃতি। এ বাড়িতে থাকতেই তার মনে ধীরে ধীরে দানা বেঁধেছিল বিপ্লবের বীজ। পটিয়ার ধলঘাটে জন্ম নেওয়া মেয়েটির ‘প্রীতিলতা’ হয়ে ওঠার গল্পে একসময় জ্বলন্ত সাক্ষী হয়ে উঠল এই নগর।
এই নগরে ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের জন্য আত্মাহুতি দিলেন তিনি। পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব থেকে জেএমসেন হলের বিপ্লবীদের আস্তানা, অপর্ণাচরণ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয় থেকে জামালখান সবই প্রীতিলতার বিপ্লবী ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।
এমন মহীয়সীকে ঘিরে এই নগরের এত স্মৃতি! এত গৌরবের ইতিহাস। আজ এক শ বছর পর সেই নগরীই যেন মনে রাখেনি প্রীতিলতাকে। পুরো নগরী জুড়ে প্রীতিলতার স্মৃতি বলতে আছে একটি আবক্ষমূর্তি আর কিছু স্মৃতিফলক। তার স্মৃতিধন্য ইউরোপিয়ান ক্লাবটিও জাদুঘর করার কথা থাকলেও এগোয়নি কাজ।
প্রীতিলতার বংশধর ও প্রীতিলতা ট্রাস্টের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, নগরে প্রীতিলতার স্মৃতি বলতে পাহাড়তলীতে তার ওই আবক্ষমূর্তি আর জামালখানের দেয়াল ফলক। এসব প্রমাণ করে প্রশাসন সবময় তার স্মৃতি রক্ষায় উদাসীন। এই নগরী তো প্রীতিলতাকে মনে রাখেনি।
চট্টগ্রামে প্রীতিলতার স্মৃতির প্রতি এই অবমাননা নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রীতিলতা ট্রাস্টের সভাপতি পংকজ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, যে চট্টগ্রামে তিনি বেড়ে উঠলেন সে নগরীতেই তার স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নেয়নি কোনো কর্তৃপক্ষই।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, ২০১৭ সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবের স্মৃতি বিজড়িত বর্তমান রেল কার্যালয়টি ভেঙে বহুতল ভবন করতে চেয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। তখন সেটির প্রতিবাদ জানিয়ে ঠেকিয়েছিলাম। আমরা চাই দ্রুত সেই স্থানকে জাদুঘর করা হোক।
রেলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, আমরা আপাতত ওই স্থানকে সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে রেখেছি। জাদুঘর করার বিষয়টি অবগত নই।










