সম্পাদকীয়

ছবিটি দেখে বানরের কথা মনে হয়নি। মনে হয়েছে, মানুষের ছবিই দেখছি। বাংলাদেশের মানুষের ছবি। ‘আজকের পত্রিকা’র প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে ছবিটি। রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের কাজলা টোলপ্লাজার কাছে বিশাল উঁচু তারের বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। পথচারীরা যেন সেই বেষ্টনী অতিক্রম করে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। কিন্তু বাঙালিকে কি তারের বেষ্টনী রুখতে পারে? ঝুঁকি নিয়ে বেষ্টনী পার হয়ে রাস্তার অন্যদিকে যাওয়ার কথা সেই লোকই ভাবতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে আইন ভাঙার প্রবণতা। আইন ভাঙাতেই যার আনন্দ।
কিছুদিন আগে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল আরেকটি ছবি। মেট্রোরেল স্টেশনের বিশাল লোহার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই দরজা বেয়ে উঠে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল মানুষ। কী তাদের উৎসাহ! চোখে-মুখে হাসি! দরজা বন্ধ মানে যে ওপারে যাওয়া যাবে না, সেটা কেউ ভাবেইনি! যেন লোহার দরজা ডিঙানোতে পৃথিবীর সব আনন্দ লুকানো আছে!
এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, নিয়ম ভাঙাকে আমরা একেবারে অবশ্যকরণীয় কাজে পরিণত করেছি। ‘সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না’ প্রবাদ বাক্যটি আমরা আত্মস্থ করে নিয়েছি। তাই আমাদের জীবনে ‘সোজা’ বলে কিছু নেই। সবকিছুই বাঁকা পথে চলে।
বাঁকা পথে যে চলে, তার উদাহরণ তো ভূরি ভূরি পাওয়া যাবে। পেনশনের টাকা ওঠাতে যাবেন? সরকারি কর্মচারী আপনাকে ডেকে ডেকে বলবেন, ‘নিন ভাই, আপনি আপনার কাগজপত্র নিয়ে যান। এত দিন কাজ করেছেন, আমরা ধন্য। এবার নিজের পেনশনের টাকায় সুস্থ জীবন কাটিয়ে দিন। এই “জামাই-আদর”-এর জন্য কোনো “স্পিড মানি”র প্রয়োজন নেই।’
কজন পেনশনধারী এই সোজা পথের সন্ধান পেয়েছেন?
সরকারি কেনাকাটা করবেন? তাহলে বালিশ-কাণ্ডের গল্পটা একবার ঝালিয়ে নেবেন। শুধু বালিশ কেন, একটা পাঁচ টাকা দামের কলম যখন এক হাজার টাকায় কিনবেন, তখন বুঝতে পারবেন, একেবারে ঠিক পথে আছেন। এই বাঁকা পথটাই আমাদের জন্য সোজা পথ।
অনেকেই বলে, একসময়ের দুর্দশাগ্রস্ত দেশ সিঙ্গাপুর কিছুদিন কঠোরতার মধ্যে থেকে কেমন বদলে গেল! আমাদের দেশেও সে রকম লৌহশাসন প্রবর্তিত হলে সবাই ‘সোজা’ হয়ে যেত। কথাটায় বিশ্বাস রাখতে চাই, কিন্তু রাখা যায় কি? প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার একটি দেশ এখন কঠোর আইনের শাসনে চলে।
আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশে কি সেটা সম্ভব? ধরা যাক, কাউকে আইন ভঙ্গের জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। কিন্তু সেই জরিমানা আদায়ের আগেই ২ হাজার টাকায় রফা হয়ে যাওয়া ঠেকাবে কে? এটাকে বলা হয় ‘সিস্টেম’। এই সিস্টেমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কি সহজ ব্যাপার?
তাই কাউকে বেষ্টনী ডিঙাতে দেখলে তাকে ‘বানর’ মনে হয় না। ‘মানুষ’ বলেই মনে হয়। তবে এ এক অন্য জগতের মানুষ, যাদের আচরণের সঙ্গে অন্য দেশের সাধারণ মানুষের আচরণ মেলানো কঠিন।

ছবিটি দেখে বানরের কথা মনে হয়নি। মনে হয়েছে, মানুষের ছবিই দেখছি। বাংলাদেশের মানুষের ছবি। ‘আজকের পত্রিকা’র প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে ছবিটি। রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের কাজলা টোলপ্লাজার কাছে বিশাল উঁচু তারের বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। পথচারীরা যেন সেই বেষ্টনী অতিক্রম করে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। কিন্তু বাঙালিকে কি তারের বেষ্টনী রুখতে পারে? ঝুঁকি নিয়ে বেষ্টনী পার হয়ে রাস্তার অন্যদিকে যাওয়ার কথা সেই লোকই ভাবতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে আইন ভাঙার প্রবণতা। আইন ভাঙাতেই যার আনন্দ।
কিছুদিন আগে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল আরেকটি ছবি। মেট্রোরেল স্টেশনের বিশাল লোহার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই দরজা বেয়ে উঠে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিল মানুষ। কী তাদের উৎসাহ! চোখে-মুখে হাসি! দরজা বন্ধ মানে যে ওপারে যাওয়া যাবে না, সেটা কেউ ভাবেইনি! যেন লোহার দরজা ডিঙানোতে পৃথিবীর সব আনন্দ লুকানো আছে!
এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, নিয়ম ভাঙাকে আমরা একেবারে অবশ্যকরণীয় কাজে পরিণত করেছি। ‘সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না’ প্রবাদ বাক্যটি আমরা আত্মস্থ করে নিয়েছি। তাই আমাদের জীবনে ‘সোজা’ বলে কিছু নেই। সবকিছুই বাঁকা পথে চলে।
বাঁকা পথে যে চলে, তার উদাহরণ তো ভূরি ভূরি পাওয়া যাবে। পেনশনের টাকা ওঠাতে যাবেন? সরকারি কর্মচারী আপনাকে ডেকে ডেকে বলবেন, ‘নিন ভাই, আপনি আপনার কাগজপত্র নিয়ে যান। এত দিন কাজ করেছেন, আমরা ধন্য। এবার নিজের পেনশনের টাকায় সুস্থ জীবন কাটিয়ে দিন। এই “জামাই-আদর”-এর জন্য কোনো “স্পিড মানি”র প্রয়োজন নেই।’
কজন পেনশনধারী এই সোজা পথের সন্ধান পেয়েছেন?
সরকারি কেনাকাটা করবেন? তাহলে বালিশ-কাণ্ডের গল্পটা একবার ঝালিয়ে নেবেন। শুধু বালিশ কেন, একটা পাঁচ টাকা দামের কলম যখন এক হাজার টাকায় কিনবেন, তখন বুঝতে পারবেন, একেবারে ঠিক পথে আছেন। এই বাঁকা পথটাই আমাদের জন্য সোজা পথ।
অনেকেই বলে, একসময়ের দুর্দশাগ্রস্ত দেশ সিঙ্গাপুর কিছুদিন কঠোরতার মধ্যে থেকে কেমন বদলে গেল! আমাদের দেশেও সে রকম লৌহশাসন প্রবর্তিত হলে সবাই ‘সোজা’ হয়ে যেত। কথাটায় বিশ্বাস রাখতে চাই, কিন্তু রাখা যায় কি? প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার একটি দেশ এখন কঠোর আইনের শাসনে চলে।
আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশে কি সেটা সম্ভব? ধরা যাক, কাউকে আইন ভঙ্গের জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। কিন্তু সেই জরিমানা আদায়ের আগেই ২ হাজার টাকায় রফা হয়ে যাওয়া ঠেকাবে কে? এটাকে বলা হয় ‘সিস্টেম’। এই সিস্টেমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কি সহজ ব্যাপার?
তাই কাউকে বেষ্টনী ডিঙাতে দেখলে তাকে ‘বানর’ মনে হয় না। ‘মানুষ’ বলেই মনে হয়। তবে এ এক অন্য জগতের মানুষ, যাদের আচরণের সঙ্গে অন্য দেশের সাধারণ মানুষের আচরণ মেলানো কঠিন।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫