চেয়ারম্যানের বাধায় ৮ দিন বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ

বিল বকেয়া থাকায় বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের বাধার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ আট দিন বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হয়।
ইউপি সূত্রে জানা গেছে, ৫১ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে ৫ মে পরিষদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংযোগ না থাকায় পরের আট দিন জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, জমির পরচা, নামজারির প্রস্তাবনা, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগের চেয়ারম্যানের সময়ের ১৩ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত আলী পরিশোধ করতে রাজি না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ।
চেয়ারম্যান শওকত বলেন, ‘আমি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নিয়েছি। আগের চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ খরচ করে তা পরিশোধ করেননি। সেই খরচ আমি কেন পরিশোধ করব? উদ্যোক্তা জন্মনিবন্ধনের কাজ করেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনো টাকা পাই না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস বিদ্যুৎ খরচ করে, সেখান থেকেও কোনো টাকা পাই না। এ ছাড়া কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন আগের চেয়ারম্যান। ওই বাড়িগুলো থেকেও টাকা পাই না। এসব সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুনঃ সংযোগ নিতে চাই না।’
এ নিয়ে অচলাবস্থা চলতে থাকলে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদ সংযোগ লাগানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি গতকাল রোববার বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমাকে ইউপি সচিব জানায়নি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
এ বিষয়ে ইউপি সচিব রুপছানা পারভীন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো উচিত ছিল, কিন্তু চেয়ারম্যানের কারণে জানাতে পারিনি। এ রকম ভুল আর হবে না।’
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বদরগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক ফখরুল আলম বলেন, ‘ওই ইউনিয়ন পরিষদে বিল বকেয়া ৫১ হাজার টাকা। বিল পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যানকে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, সাড়া পাইনি। পরে তাঁর সঙ্গে নিজেও কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি তাঁর সময়ের বাইরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অপরাগত প্রকাশ করেন। এ কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।’









