সম্পাদকীয়

শামসুর রাহমানের মগের মুল্লুক কিংবা যোগীন্দ্রনাথ সরকারের মজার দেশে আমরা বাস করি না। আমরা বাস করি এমন একটা দেশে, যেখানে মগের মুল্লুক কিংবা মজার দেশের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। যেমন একটা ঘটনা ঘটছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। শ্রীপুরের কাওরাইদে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন দখল করে বাজার বসছে!
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, রেললাইনের ওপর বাজার বসছে। সপ্তাহের দুই দিন—বৃহস্পতি ও রোববারে বসে এই বাজার। দোকানিরা মালামাল নিয়ে রেললাইনের ওপর বসলে ক্রেতারাও সেখানে ভিড় জমান। ফলে পুরো রেললাইন ঢেকে যায়। রেললাইনের ওপর দিয়ে রেলগাড়ি চলার কথা থাকলেও সেখানে বাজার বসার ঘটনাটা অবাক তো করবেই। তবে রেলগাড়িও চলে সেই রেললাইনের ওপর দিয়ে।
ট্রেন আসার আগে হন্তদন্ত হয়ে বাজারিরা রেললাইন থেকে সরে যান। ট্রেন চলে গেলে আবার যথাস্থানে ফিরে আসেন। অনেক সময় বিক্রেতারা নিজেদের মালামালসহ সরতে পারেন না। ট্রেন চলে গেলে দেখা যায় সেই সব মালামাল ট্রেনের নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে গেছে।
এত ঝুঁকি নিয়ে কেন রেললাইনের ওপর বাজার বসান বিক্রেতারা, সেই ব্যাখ্যাও তাঁরা দিয়েছেন। ইজারাদারেরা যেখানে বলেন, তাঁদের সেখানেই পসরা সাজিয়ে বসতে হয়। বাজারের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। কিন্তু সেটা রয়েছে আবার অবৈধ দখলে। ইজারাদারদের বারবার এ নিয়ে বলার পরেও তাঁরা কথা যেন কানেই নিচ্ছেন না। কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আল আমিন জানান, আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই রেললাইনের ওপর বাজার বসানো যাবে না। বাজার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন বলেও জানান, কিন্তু লাভ হয়নি। এদিকে কাওরাইদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, বাজারের নির্দিষ্ট জায়গা কাঠ ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছেন।
সবাই সবকিছু জানেন। কোথায় কারা অন্যায় করছেন, অবৈধভাবে জায়গা দখল করছেন, তা কারও যদি অজানা না-ই থাকে, তাহলে কেন এখন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি কেউ, সেই প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। উত্তর যদি হয় ওই কাঠ ব্যবসায়ীরা এলাকার প্রভাবশালী কেউ, তবু কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব নয়? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে সেখানে?
এ ধরনের দখলের ঘটনা শুধু কাওরাইদেই হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। বছরের পর বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জায়গা দখল করে নিচ্ছে। টেলিভিশনের খবর কিংবা পত্রপত্রিকায় চোখ বোলালে প্রায় প্রতিদিনই এমন ধরনের সংবাদ দৃষ্টি এড়ায় না। কোথাও ভূমি দখল হচ্ছে, কোথাও সম্পদ দখল হচ্ছে। খোঁজ করলে দেখা যাবে, এই দখলকারীরা কোনো না কোনোভাবে রাজনীতিকে আশ্রয় করে ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখছে। এতে করে কিন্তু রাজনীতিকদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও কমছে দিন দিন।
দেশে আইন আছে অথচ প্রভাবশালীরা ক্ষমতার জেরে সেই আইন পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে কি না, সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। এ প্রশ্নটির উত্তর মগের মুল্লুকে দিলে হবে না, দিতে হবে এ দেশটাতেই।

শামসুর রাহমানের মগের মুল্লুক কিংবা যোগীন্দ্রনাথ সরকারের মজার দেশে আমরা বাস করি না। আমরা বাস করি এমন একটা দেশে, যেখানে মগের মুল্লুক কিংবা মজার দেশের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। যেমন একটা ঘটনা ঘটছে, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। শ্রীপুরের কাওরাইদে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন দখল করে বাজার বসছে!
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, রেললাইনের ওপর বাজার বসছে। সপ্তাহের দুই দিন—বৃহস্পতি ও রোববারে বসে এই বাজার। দোকানিরা মালামাল নিয়ে রেললাইনের ওপর বসলে ক্রেতারাও সেখানে ভিড় জমান। ফলে পুরো রেললাইন ঢেকে যায়। রেললাইনের ওপর দিয়ে রেলগাড়ি চলার কথা থাকলেও সেখানে বাজার বসার ঘটনাটা অবাক তো করবেই। তবে রেলগাড়িও চলে সেই রেললাইনের ওপর দিয়ে।
ট্রেন আসার আগে হন্তদন্ত হয়ে বাজারিরা রেললাইন থেকে সরে যান। ট্রেন চলে গেলে আবার যথাস্থানে ফিরে আসেন। অনেক সময় বিক্রেতারা নিজেদের মালামালসহ সরতে পারেন না। ট্রেন চলে গেলে দেখা যায় সেই সব মালামাল ট্রেনের নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে গেছে।
এত ঝুঁকি নিয়ে কেন রেললাইনের ওপর বাজার বসান বিক্রেতারা, সেই ব্যাখ্যাও তাঁরা দিয়েছেন। ইজারাদারেরা যেখানে বলেন, তাঁদের সেখানেই পসরা সাজিয়ে বসতে হয়। বাজারের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। কিন্তু সেটা রয়েছে আবার অবৈধ দখলে। ইজারাদারদের বারবার এ নিয়ে বলার পরেও তাঁরা কথা যেন কানেই নিচ্ছেন না। কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আল আমিন জানান, আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই রেললাইনের ওপর বাজার বসানো যাবে না। বাজার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন বলেও জানান, কিন্তু লাভ হয়নি। এদিকে কাওরাইদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, বাজারের নির্দিষ্ট জায়গা কাঠ ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছেন।
সবাই সবকিছু জানেন। কোথায় কারা অন্যায় করছেন, অবৈধভাবে জায়গা দখল করছেন, তা কারও যদি অজানা না-ই থাকে, তাহলে কেন এখন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি কেউ, সেই প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। উত্তর যদি হয় ওই কাঠ ব্যবসায়ীরা এলাকার প্রভাবশালী কেউ, তবু কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব নয়? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে সেখানে?
এ ধরনের দখলের ঘটনা শুধু কাওরাইদেই হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। বছরের পর বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জায়গা দখল করে নিচ্ছে। টেলিভিশনের খবর কিংবা পত্রপত্রিকায় চোখ বোলালে প্রায় প্রতিদিনই এমন ধরনের সংবাদ দৃষ্টি এড়ায় না। কোথাও ভূমি দখল হচ্ছে, কোথাও সম্পদ দখল হচ্ছে। খোঁজ করলে দেখা যাবে, এই দখলকারীরা কোনো না কোনোভাবে রাজনীতিকে আশ্রয় করে ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখছে। এতে করে কিন্তু রাজনীতিকদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও কমছে দিন দিন।
দেশে আইন আছে অথচ প্রভাবশালীরা ক্ষমতার জেরে সেই আইন পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে কি না, সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। এ প্রশ্নটির উত্তর মগের মুল্লুকে দিলে হবে না, দিতে হবে এ দেশটাতেই।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫