সোহেল মারমা, চট্টগ্রাম

৯ বছর আগে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৫ জন, গত বছর নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুডে অগ্নিকাণ্ডে ৫১ জন এবং একই বছর ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনে পুড়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে মালিকেরা গ্রেপ্তার হন। কিন্তু সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪৬ জন নিহতের ঘটনায় মালিকদের বিষয়ে নিয়মটা যেন ভিন্ন। এ ঘটনায় মালিকেরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযোগ উঠেছে, মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা শুরু থেকেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগের দায় থেকে তাঁদের রেহাই দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
গত ৪ জুন রাতে চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রথমে অগ্নিকাণ্ড ও পরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ৪৬ জন (বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ তথ্য) মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
ঘটনার চার দিন পর গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএম ডিপোতে কর্মরত আট কর্মকর্তা ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ৩৩৭/৩৩৮/৩০৪-ক/৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এ দুর্ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতিকে দায়ী করা হলেও মামলার আসামি করা হয়েছে ডিপোর আট কর্মকর্তাকে।
তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিপজ্জনক রাসায়নিক ভর্তি কন্টেইনার রাখা, অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কন্টেইনারে ভেতরে রাখা কেমিক্যালের তথ্য অবহিত না করা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, ইচ্ছাকৃত অবহেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে দুর্ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও প্রথমে কোনো মামলা হয়নি। আবার ঘটনাস্থলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ পরিদর্শনের পরও শিগগিরই মামলা করার কোনো ইঙ্গিত দেননি। গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়ে থাকলে সে অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে অবশ্য বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে আইজিপি পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর ওই রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। আবার মামলা করলেও আসামি করা নিয়ে হয়েছে সমালোচনা।
মামলায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা উল্লেখ থাকলেও মালিকদের অভিযুক্ত করা হয়নি। ডিপোতে কর্মরতদের আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে দুজন ওই দিনের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষের উপস্থিতি ছিল না। এটা নিয়ে শুরু থেকেই ফায়ার সার্ভিস মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন। একটি পর্যায়ে গিয়ে মালিকপক্ষের বদলে ঘটনাস্থলে তাঁদের প্রতিনিধি পাঠান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্মার্ট গ্রুপের কনসার্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১১ সাল থেকে বিএম কন্টেইনার ডিপো নামের বেসরকারি অফডক পরিচালনা করে আসছে। নেদারল্যান্ডস-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা করছে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে স্মার্ট গ্রুপের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন মুজিবুর রহমান। তিনি আবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে আছেন।
বিএম কন্টেইনার ডিপোর চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বার্ট প্রংক। আর বিএম ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মুজিবুর রহমানের বড় ভাই। আবার মুজিবুর রহমানও বিএম ডিপোর পরিচালক পদে রয়েছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় শুরু থেকেই তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) মো. আশরাফুল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
অবশ সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওইদিন ডিপোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, যাদের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মূলত এ মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।
তবে মামলায় কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্তে নাম উঠে এলে সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে তাঁদেরও (মালিকপক্ষ) আসামি করা হবে। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানান ওসি।

৯ বছর আগে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৫ জন, গত বছর নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুডে অগ্নিকাণ্ডে ৫১ জন এবং একই বছর ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনে পুড়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে মালিকেরা গ্রেপ্তার হন। কিন্তু সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪৬ জন নিহতের ঘটনায় মালিকদের বিষয়ে নিয়মটা যেন ভিন্ন। এ ঘটনায় মালিকেরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযোগ উঠেছে, মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা শুরু থেকেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগের দায় থেকে তাঁদের রেহাই দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
গত ৪ জুন রাতে চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে প্রথমে অগ্নিকাণ্ড ও পরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ৪৬ জন (বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ তথ্য) মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
ঘটনার চার দিন পর গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএম ডিপোতে কর্মরত আট কর্মকর্তা ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ৩৩৭/৩৩৮/৩০৪-ক/৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এ দুর্ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতিকে দায়ী করা হলেও মামলার আসামি করা হয়েছে ডিপোর আট কর্মকর্তাকে।
তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিপজ্জনক রাসায়নিক ভর্তি কন্টেইনার রাখা, অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কন্টেইনারে ভেতরে রাখা কেমিক্যালের তথ্য অবহিত না করা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, ইচ্ছাকৃত অবহেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে দুর্ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও প্রথমে কোনো মামলা হয়নি। আবার ঘটনাস্থলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ পরিদর্শনের পরও শিগগিরই মামলা করার কোনো ইঙ্গিত দেননি। গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়ে থাকলে সে অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে অবশ্য বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে আইজিপি পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর ওই রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। আবার মামলা করলেও আসামি করা নিয়ে হয়েছে সমালোচনা।
মামলায় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা উল্লেখ থাকলেও মালিকদের অভিযুক্ত করা হয়নি। ডিপোতে কর্মরতদের আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে দুজন ওই দিনের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষের উপস্থিতি ছিল না। এটা নিয়ে শুরু থেকেই ফায়ার সার্ভিস মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন। একটি পর্যায়ে গিয়ে মালিকপক্ষের বদলে ঘটনাস্থলে তাঁদের প্রতিনিধি পাঠান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্মার্ট গ্রুপের কনসার্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১১ সাল থেকে বিএম কন্টেইনার ডিপো নামের বেসরকারি অফডক পরিচালনা করে আসছে। নেদারল্যান্ডস-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা করছে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে স্মার্ট গ্রুপের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন মুজিবুর রহমান। তিনি আবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে আছেন।
বিএম কন্টেইনার ডিপোর চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বার্ট প্রংক। আর বিএম ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মুজিবুর রহমানের বড় ভাই। আবার মুজিবুর রহমানও বিএম ডিপোর পরিচালক পদে রয়েছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় শুরু থেকেই তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) মো. আশরাফুল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
অবশ সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওইদিন ডিপোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, যাদের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মূলত এ মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।
তবে মামলায় কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্তে নাম উঠে এলে সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে তাঁদেরও (মালিকপক্ষ) আসামি করা হবে। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানান ওসি।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫