সম্পাদকীয়

ছেলে ছাত্রলীগ করেন বলে বাবা তাঁকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন। বাবা নিজে বিএনপি ঘরানার রাজনীতি করতেন। এখন নাকি তিনি আর রাজনীতি করেন না। দলছুট ছেলে কেন ছাত্রলীগ করবেন, এটাই হয়তো বাবার আক্ষেপ। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে।
ছেলেকে কোনো বাবা ত্যাজ্য ঘোষণা করবেন কি না, সেটা সেই পরিবারের একান্ত নিজেদের ব্যাপার। বাবা-ছেলে সম্পর্ক বাইরে থেকে কেউ এসে ঠিক করে দেবে না, সেটা তাঁদের নিজেদেরই ঠিক করে নিতে হবে। এখানে আমরা যে কথাটুকু বলতে পারি তা হলো, পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষ কীভাবে তাঁর জীবন গড়ে নেবেন, কোন মত ও পথ অবলম্বন করবেন, সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। সেই সঙ্গে পারিবারিক শিক্ষা তাতে যৌক্তিক পথ বেছে নিতে সাহায্য করে। আদর্শবাদী রাজনীতি আজকাল আর হালে পানি পায় না, সে কথা বলে বোঝাতে হয় না। রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনের পদ লাভের পাশাপাশি নিজস্ব লাভালাভের প্রশ্ন এখন অনেকটাই অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
ফলে, একসময় রাজনৈতিক নেতা বলতে যে ত্যাগী মানুষটির অবয়ব ভেসে উঠত মানসপটে, এখন সেটা আর হয় না; বরং রাজনৈতিক নেতার মনে কোনো মতলব আছে কি না, সেই সন্দেহটা জেগে ওঠে সবার আগে। এই পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করলে প্রথমেই বলতে হয়, ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে এসে দৃষ্টান্ত গড়ছেন না বলেই দুষ্টবুদ্ধির মানুষ সেই শূন্যস্থান পূরণ করে নিচ্ছেন। তাই রাজনীতির মাঠে সততার যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা হঠাৎ করেই উবে যাবে না।
রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করার ঘটনাও আমরা কম দেখিনি। ব্রিটিশ ভারতে ফরিদপুরের দুই ভাই ইউসুফ আলী চৌধুরী বা মোহন মিয়া ও চৌধুরী আবদুল্লাহ জহীরউদ্দিন বা লাল মিয়ার দুই দলে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করার কথা নিশ্চয়ই অনেকের স্মরণে আছে। কখনো কংগ্রেস, কখনো শেরেবাংলার কৃষক প্রজা পার্টি, কখনো মুসলিম লীগের রাজনীতি করেছেন তাঁরা। আবার একই পরিবারের সদস্য রাশেদ খান মেনন ও সেলিমা রহমান। তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আলাদা। একজন ওয়ার্কার্স পার্টি করেন, অন্যজন বিএনপির ডাকসাইটে নেতা। একই পরিবারে থেকে ভিন্ন আদর্শের রাজনীতি করার নজির অনেক আছে। কখনো নিজের ইচ্ছায়, কখনো ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবারের সদস্যরাই নানা দল বেছে নেন। তাই পরিবারের কেউ একজন ছাত্রলীগ করায় তাঁর বিএনপির সমর্থক বাবা তাঁকে ত্যাজ্য করে দেবেন, এটা একটু বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়।
বাংলাদেশই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পোক্ত হয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এখনো। স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি বলে যাঁরা নিজেদের পরিচয় দেন, তাঁরাও বিভিন্ন সময় এই অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং এখনো করে থাকেন। ফলে আদর্শিক রাজনীতি বলে যে কথাটি রয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ রকম অবস্থায় ‘ছাত্রলীগ’ করার কারণে ছেলেকে ত্যাজ্য করার ঘটনা আরও অনেক দিক থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। আমাদের হচ্ছেটা কী—সে প্রশ্নই আসে সর্বাগ্রে। তারই সমাধান দরকার।

ছেলে ছাত্রলীগ করেন বলে বাবা তাঁকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন। বাবা নিজে বিএনপি ঘরানার রাজনীতি করতেন। এখন নাকি তিনি আর রাজনীতি করেন না। দলছুট ছেলে কেন ছাত্রলীগ করবেন, এটাই হয়তো বাবার আক্ষেপ। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে।
ছেলেকে কোনো বাবা ত্যাজ্য ঘোষণা করবেন কি না, সেটা সেই পরিবারের একান্ত নিজেদের ব্যাপার। বাবা-ছেলে সম্পর্ক বাইরে থেকে কেউ এসে ঠিক করে দেবে না, সেটা তাঁদের নিজেদেরই ঠিক করে নিতে হবে। এখানে আমরা যে কথাটুকু বলতে পারি তা হলো, পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষ কীভাবে তাঁর জীবন গড়ে নেবেন, কোন মত ও পথ অবলম্বন করবেন, সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। সেই সঙ্গে পারিবারিক শিক্ষা তাতে যৌক্তিক পথ বেছে নিতে সাহায্য করে। আদর্শবাদী রাজনীতি আজকাল আর হালে পানি পায় না, সে কথা বলে বোঝাতে হয় না। রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনের পদ লাভের পাশাপাশি নিজস্ব লাভালাভের প্রশ্ন এখন অনেকটাই অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
ফলে, একসময় রাজনৈতিক নেতা বলতে যে ত্যাগী মানুষটির অবয়ব ভেসে উঠত মানসপটে, এখন সেটা আর হয় না; বরং রাজনৈতিক নেতার মনে কোনো মতলব আছে কি না, সেই সন্দেহটা জেগে ওঠে সবার আগে। এই পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করলে প্রথমেই বলতে হয়, ভালো মানুষেরা রাজনীতিতে এসে দৃষ্টান্ত গড়ছেন না বলেই দুষ্টবুদ্ধির মানুষ সেই শূন্যস্থান পূরণ করে নিচ্ছেন। তাই রাজনীতির মাঠে সততার যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা হঠাৎ করেই উবে যাবে না।
রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করার ঘটনাও আমরা কম দেখিনি। ব্রিটিশ ভারতে ফরিদপুরের দুই ভাই ইউসুফ আলী চৌধুরী বা মোহন মিয়া ও চৌধুরী আবদুল্লাহ জহীরউদ্দিন বা লাল মিয়ার দুই দলে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করার কথা নিশ্চয়ই অনেকের স্মরণে আছে। কখনো কংগ্রেস, কখনো শেরেবাংলার কৃষক প্রজা পার্টি, কখনো মুসলিম লীগের রাজনীতি করেছেন তাঁরা। আবার একই পরিবারের সদস্য রাশেদ খান মেনন ও সেলিমা রহমান। তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আলাদা। একজন ওয়ার্কার্স পার্টি করেন, অন্যজন বিএনপির ডাকসাইটে নেতা। একই পরিবারে থেকে ভিন্ন আদর্শের রাজনীতি করার নজির অনেক আছে। কখনো নিজের ইচ্ছায়, কখনো ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবারের সদস্যরাই নানা দল বেছে নেন। তাই পরিবারের কেউ একজন ছাত্রলীগ করায় তাঁর বিএনপির সমর্থক বাবা তাঁকে ত্যাজ্য করে দেবেন, এটা একটু বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়।
বাংলাদেশই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পোক্ত হয়ে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এখনো। স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি বলে যাঁরা নিজেদের পরিচয় দেন, তাঁরাও বিভিন্ন সময় এই অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং এখনো করে থাকেন। ফলে আদর্শিক রাজনীতি বলে যে কথাটি রয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ রকম অবস্থায় ‘ছাত্রলীগ’ করার কারণে ছেলেকে ত্যাজ্য করার ঘটনা আরও অনেক দিক থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। আমাদের হচ্ছেটা কী—সে প্রশ্নই আসে সর্বাগ্রে। তারই সমাধান দরকার।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫