Ajker Patrika

বিশ্বের সবচেয়ে নিচু জায়গা কোনটি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৫৮
বিশ্বের সবচেয়ে নিচু জায়গা কোনটি
বিশ্বের সবচেয়ে নিচু জায়গা ডেড সি বা মৃত সাগরের তীরবর্তী রিফট উপত্যকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জায়গা হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া। তাহলে সবচেয়ে নিচু জায়গা কোনটি? ভূগোল সম্পর্কে ধারণা আছে এমন অনেকের মাথায় হয়তো মারিয়ানা ট্রেঞ্চের কথা আসবে সবার আগে। এক হিসাবে প্রশান্ত মহাসাগরের এই খাদের তলদেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু জায়গা। কিন্তু স্থলভাগে বিশ্বের সবচেয়ে নিচু জায়গাটি মধ্যপ্রাচ্যে, ডেড সি বা মৃত সাগরের তীরবর্তী জর্ডান রিফট উপত্যকার একটি এলাকা।

ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের তথ্য বলছে, জর্ডান রিফট উপত্যকার ওই এলাকাটির অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৪০ মিটার বা ১ হাজার ৪৪৪ ফুট নিচে। মজার বিষয় হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচে অবস্থান এবং সাগর পারে অবস্থিত হলেও এই জায়গাটি কিন্তু সাগরের পানিতে ডুবে যায়নি। বরং শুষ্কতা নিয়ে বহাল তবিয়তে টিকে আছে। পাশাপাশি প্রতি বছর এই জায়গাটি একটু একটু করে আরও নিচে নেমে যাচ্ছে।

জর্ডান রিফট উপত্যকার এক পাশে মৃত সাগর, অন্য তিন পাশে জর্ডান, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর। অর্থাৎ তিন দেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে এই উপত্যকা।

ডেড সি মূলত একটি লবণাক্ত হ্রদ। এই সাগরের পানিতে লবণের ঘনত্ব এতটাই যে এখানে অনায়াসে ভেসে থাকা যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
ডেড সি মূলত একটি লবণাক্ত হ্রদ। এই সাগরের পানিতে লবণের ঘনত্ব এতটাই যে এখানে অনায়াসে ভেসে থাকা যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

এবার আসা যাক মৃত সাগর প্রসঙ্গে। একে সাগর বলা হলেও এটি মূলত একটি লবণাক্ত হ্রদ। কারণ, এই জলরাশি স্থলভাগ পরিবেষ্টিত। অন্য কোনো সাগর বা মহাসাগরে পড়েনি এটি। মৃত সাগরকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে জর্ডান, ইসরায়েল ও পশ্চিম তীর। এই সাগরে একটি মাত্র নদী পড়েছে- জর্ডান নদী। ফলে মৃত সাগরের যত পানি, তার সিংহ ভাগের জোগানদাতা জর্ডান নদী। যেহেতু আর কোনো নদী এই সাগরে এসে পড়েনি বা এখান থেকে কোনো নদীর উৎপত্তি হয়নি, কাজেই মৃত সাগর থেকে পানি বের হওয়ার একমাত্র পথ বাষ্পীভবন। এই প্রক্রিয়ার কারণে মৃত সাগর থেকে জলীয় বাষ্প আকারে শুধু পানি বের হয়, রয়ে যায় লবণ। ফলে বিশ্বের অন্যান্য সাগর-মহাসাগরের চেয়ে মৃত সাগরের লবণাক্ততা অন্তত ১০ গুণ বেশি।

মৃত সাগরের পানির লবণাক্ততার হার ৩৪ শতাংশ। এখানকার পানিতে মানুষ অনায়াসে ভেসে থাকতে পারে। কিন্তু লবণাক্ততা যেহেতু বেশি, তাই মৃত সাগর মাছ কিংবা অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ বা প্রাণীর টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত কঠিন। এমনকি এই সাগরে আণুবিক্ষণিক জীবাণুও টিকতে পারে না। অবশ্য মৃত সাগরের খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ কাদামাটি প্রাকৃতিক স্পা হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এতে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম ও পটাশিয়াম। ত্বকের যত্নে এসব খনিজ উপাদান ব্যবহার হয়।

মৃত সাগরের পারের আরেকটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানে বায়ুচাপ তুলনামূলক অনেক বেশি। ফলে এখানে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ঢুকতে পারে না। এ কারণে মৃত সাগরে সূর্যের প্রখরতা যতই থাকুক না কেন, সেই রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক কম।

কিন্তু বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিমাত্রায় আহরণের কারণে মৃত সাগরে পানির উচ্চতা প্রতি বছর ১ মিটার বা ৩ ফুট করে কমছে। ফলে দিনে দিনে ছোট হচ্ছে এই সাগর। এদিকে সাগর ছোট হয়ে আসায় এখানকার বাস্তুসংস্থান পড়েছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য বলছে, মৃত সাগরে ক্রমাগত পানি কমায় এর পারে হাজারো ঝুঁকিপূর্ণ গহ্বর সৃষ্টি হচ্ছে, যা সিঙ্কহোল নামে পরিচিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত