
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ২০১০ সালের মানদণ্ডের তুলনায় ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে চরম তাপের অনুভূতির হার দ্বিগুণ হতে পারে। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে হয়েছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।
গবেষণাটি পরিবেশবিষয়ক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার সাসটেইনেবিলিটিতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রের লেখকদের একজন একে ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার চলতে থাকলে আগামী প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এমন হলে প্রায় ৩৭৯ কোটি মানুষ চরম তাপের মুখে পড়বে। অথচ ২০১০ সালে করা পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫৪ কোটি।
চরম তাপ বলতে সাধারণত এমন আবহাওয়াকে বোঝানো হয়, যেখানে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে।
গবেষণার প্রধান লেখক জেসুস লিজানা বলেন, ‘ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন—এই দেশগুলোতেই চরম তাপের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে। এসব দেশে মানুষকে বছরে ৩ হাজারের বেশি কুলিং ডিগ্রি ডে বা সিডিডি পরিস্থিতিতে থাকতে হবে।’
কুলিং ডিগ্রি ডে’জ দিয়ে বোঝানো হয় ঘরের ভেতর নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখতে কতটা শক্তি প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘৩ হাজার বা তার বেশি সিডিডি মানে হলো সারা বছর ধরে দীর্ঘ সময়ের জন্য তীব্র তাপের চাপ।’
জেসুস লিজানা আরও বলেন, ‘আমাদের গবেষণা দেখায়, শীতলীকরণ ও উষ্ণীকরণের চাহিদার বেশির ভাগ পরিবর্তন দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রমের আগেই ঘটে যায়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার বসানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু যদি বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়, তাহলে তার পরেও তাপমাত্রা বাড়তেই থাকবে।’
গবেষণার আরেক লেখক ও অধ্যাপক রাধিকা খোসলা বলেন, ‘আমাদের এই ফলাফল একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতার সীমা অতিক্রম করলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অভিবাসন ও কৃষিসহ সব ক্ষেত্রেই নজিরবিহীন প্রভাব পড়বে। আরও উষ্ণ ভবিষ্যৎ ঠেকানোর একমাত্র স্বীকৃত পথ হলো নেট-জিরো টেকসই উন্নয়ন। রাজনীতিকদের দ্রুত সেই পথে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, সর্বোচ্চ ২ ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব ইতিমধ্যেই বিপজ্জনকভাবে ১.৫ ডিগ্রির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে ‘অত্যন্ত শীতল’ অঞ্চলে বসবাসকারী বিশ্বের মানুষের হার ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে, কারণ পৃথিবীতে এমন শীতল অঞ্চল ক্রমেই কমে যাবে। গবেষণায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চরম তাপের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যাগত চাপ পড়বে ভারতের ওপর।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, লাওস ও ব্রাজিলে মাথাপিছু শীতলীকরণের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে। অন্যদিকে কানাডা, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়েতে উষ্ণতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি কমবে, কারণ এসব দেশে আবহাওয়া দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠবে।

কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় শীতের অনুভূতি এখন নেই বললে চলে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সেটি বেড়ে হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে ১১ দশমিক ৪।
১৮ ঘণ্টা আগে
রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। গতকাল সকালে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজ শুক্রবার যা হয়েছে ১৮ দশমিক ৬। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দিনের বেলা ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
২১ ঘণ্টা আগে
নরওয়ের দ্বীপপুঞ্জে থাকা মেরু ভালুক নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এক আশ্চর্য গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, সমুদ্রের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় মেরু ভালুক আরও দুর্বল ও অপুষ্ট হবে।
১ দিন আগে
আগের দিন বুধবারের চেয়ে রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা আজ সকালে বেড়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় সকালের তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজ বৃহস্পতিবার ছিল ১৭ দশমিক ১। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দিনের বেলা ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
২ দিন আগে