Ajker Patrika

জীববৈচিত্র্য নীতিনির্ধারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দাবি অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জীববৈচিত্র্য নীতিনির্ধারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দাবি অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
বন অধিদপ্তরের করবী সম্মেলনকক্ষে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ‘ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্যবিষয়ক নীতিনির্ধারণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, অগ্রাধিকার ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন যুব নেতৃত্ব, নারী অধিকারকর্মী, জলবায়ুকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ বুধবার বন অধিদপ্তরের করবী সম্মেলনকক্ষে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ‘ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের উদ্যোগে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ও বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির। উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরিফুল হক। সভাপতিত্ব করেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা।

সংলাপে বক্তারা বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, অগ্রাধিকার ও ন্যায্য দাবি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করলে উপকূলীয় প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনায় উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈরী আবহাওয়াজনিত জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত সংকট, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় উঠে আসে।

স্থানীয় পর্যায়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগে নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং ভূমিকার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

রোকসানা সুলতানা বলেন, “উপকূলীয় জনগোষ্ঠী শুধু জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ঝুঁকির সম্মুখীন নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন রোকসানা সুলতানা। নারী, যুব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগে সহায়তা ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপ থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক ১৭তম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে উপস্থাপন এবং আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা করেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্যবিষয়ক নীতিগত আলোচনায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে।

সংলাপে আরও অংশ নেন বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের পরিচালক কাজী এমদাদুল হক এবং ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উপপরিচালক তারেকুজ্জামান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত