Ajker Patrika

পরিবেশবান্ধব নির্মাণে রিহ্যাবকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পরিবেশবান্ধব নির্মাণে রিহ্যাবকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

নির্মাণকাজে ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ক্ষতি কমাতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আজ রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলার বিস্তার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ ও মেরামতকাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে।

নির্মাণস্থল ঘিরে রাখা, মাটি-বালিসহ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে সংরক্ষণ এবং পরিবহনের সময় যানবাহন আচ্ছাদিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণসামগ্রী ও বর্জ্যবাহী যানবাহনের চাকা পরিষ্কার করে সড়কে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রেখে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং ধুলাদূষণ ঘটানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, নির্মাণস্থল ও আশপাশে প্রতিদিন অন্তত দুইবার পানি ছিটাতে হবে। ধুলার পরিমাণ বেশি হলে পানি ছিটানোর হার বাড়াতে হবে। নির্মাণ বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা বা পোড়ানোর পরিবর্তে দ্রুত পরিবেশসম্মত উপায়ে অপসারণ করতে হবে।

সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পের দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো ও বর্জ্য অপসারণের কাজ তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে প্রকল্পভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক ব্লকের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় যাতে না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, ভবন নির্মাণবিধি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ব্লক ব্যবহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্লকের ওপর ভ্যাট, কর ও কাঁচামাল আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব উঠে আসে।

নির্মাণ প্রকল্পে পরিবেশগত বিধিবিধান প্রতিপালন জোরদার, প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতির তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত পরিবীক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রিহ্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত