Ajker Patrika

বাংলাদেশের প্রথম ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল ৩ ব্যক্তি ও ৩২ প্রতিষ্ঠান

বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশের প্রথম ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল ৩ ব্যক্তি ও ৩২ প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন (ইএসজি) কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতি দিতে গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ ও ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এবং স্বপ্ন সুপার শপের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ৩২টি প্রতিষ্ঠান ও তিনজন ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিটা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে করপোরেট নেতৃবৃন্দ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

২০টি বিভাগে দেওয়া এই স্বীকৃতির মধ্যে ছিল জ্বালানি রূপান্তর, পানি ব্যবস্থাপনা, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, শ্রমিক কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, লিঙ্গসমতা, সরবরাহব্যবস্থাপনা, টেকসই প্রতিবেদন, পণ্য ও ডিজিটাল উদ্ভাবন।

সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এনভয় টেক্সটাইলস, কিউ কালেকশন, উর্মি গ্রুপ, মাসকো গ্রুপ, ফকির ফ্যাশন, ভিনটেজ ডেনিম, পালমাল গ্রুপ, এনার্জিপ্যাক ফ্যাশনস, ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস, গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক, বিকাশ, এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন), কোকা-কোলা বাংলাদেশ, বাটা বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার, সিটি ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স, বিএসআরএম গ্রুপ, ওয়ালটন হাই-টেক, বার্জার পেইন্টস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ডিবিএল সিরামিকস, আকিজ গ্রুপ, ডাচ্‌-বাংলা প্যাক, র‍্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচারস, নূতন বিদ্যুৎ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ল্যাবএইড ক্যানসার হসপিটাল এবং সিনজেনটা বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল, ডেনমার্ক ও সুইডেনের দূতাবাস এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথি, অতিথিবৃন্দ ও আয়োজকেরা যৌথভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থবহ অগ্রগতি আসবে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত থেকে। কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা পরিমাপযোগ্য ইএসজি কার্যক্রমের স্বাধীন স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিক্ষাঙ্গন, আর্থিক খাত ও শিল্প খাতের পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন জুরি বোর্ড সব আবেদন ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে। কোনো দাবির পক্ষে প্রমাণ যথেষ্ট না হলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়।

ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাহামিন এস. জামান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো কী বিশ্বাস করে সেটি নয়, বাস্তবে কী প্রমাণ দেখাতে পারে—ইএসজি নিয়ে আলোচনা এখন সেদিকেই যাচ্ছে।’

ইএসজি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাদমান সাকিব অনিক বলেন, ‘ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করাই এই পুরস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।’

‘চ্যাম্পিয়নিং ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন উর্মি গ্রুপের পরিচালক শামারুখ ফখরুদ্দীন, র‍্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচারস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. সুবাইল বিন আলম এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. মাহবুবুল আলম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক রিপ্রেজেনটেটিভ ফারুক সোবহান। বিনিয়োগকারীদের তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী বছরের শুরুতে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত