Ajker Patrika

বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছেই, নেই কার্যকর সুরক্ষা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছেই, নেই কার্যকর সুরক্ষা
প্রতীকী ছবি

ঝড়ের মৌসুম শুরু হতে না হতেই দেশজুড়ে বজ্রপাতের ভয়াবহতা আবারও সামনে এসেছে। গত রোববার এক দিনেই আট জেলায় কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাতে ১৫ জন নিহত হয়েছে। আবার গতকালই অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত এক দশকের হিসাবে দেখা যায়, বছরে পৌনে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ সোয়া ৪০০-এর মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। এই বিপুল প্রাণহানিকে এক ‘নীরব দুর্যোগ’ হিসেবে দেখছেন পরিবেশ ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে তাঁরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত সারা দেশে বজ্রপাতে মারা গেছে ৬৫ জন। সংস্থাটির হিসাব মতে, ২০১৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছে ৩ হাজার ২৬৪ জন। কালবৈশাখী ও বৃষ্টির সময় এসব ঘটনা ঘটেছে।

বজ্রপাতে নিয়মিত এত প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও। তাঁদের মতে, দেশে বছরে গড়ে প্রায় ৩০০ মানুষের এভাবে অপমৃত্যু হচ্ছে। কোনো কোনো বছরে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। এটি জননিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি গবেষণায় বাংলাদেশকে ‘বজ্রপাতপ্রবণ হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু এবং উত্তর দিকের হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা শীতল বায়ুর সংঘর্ষে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হয়। এটি বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বাড়ায় বায়ুমণ্ডলে শক্তি ও আর্দ্রতা বাড়ছে। এর ফলে বজ্রঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় এখন বেশি ঘন ঘন বজ্রপাত হচ্ছে এবং এর প্রভাবও মারাত্মক হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাতকে ২০১৬ সাল থেকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি; বিশেষ করে সতর্কতা চালু করা। বজ্রপাত বেশি হওয়া হাওর অঞ্চলে বজ্রনিরোধক টাওয়ার নির্মাণ করতে হবে। গাছ রোপণ করতে হবে। সেখানে প্রচুর ছাউনিও নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া বজ্রপাত নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।’

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর পেছনে সামাজিক ও অবকাঠামোগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী কৃষিনির্ভর হওয়ায় তারা খোলা মাঠে কাজ করে। সেখানে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি। উন্মুক্ত গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং পর্যাপ্ত বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা না থাকাও বেশি প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বজ্রপাত মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের আইডিইবি রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বজ্রপাতের ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। বিভিন্ন সময়ে হাওর অঞ্চলে যে ‘লাইটনিং প্রটেকশন সিস্টেম’ (বজ্রপাত সুরক্ষা ব্যবস্থা) লাগানো হয়েছে, তা অপর্যাপ্ত। অন্যদিকে এর ব্যবহার জানে না সাধারণ মানুষ। আবার কোথাও কোথাও বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাত সুরক্ষা লাগানো হয়েছে, যা আরও বিপজ্জনক।’

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, ২০১৫ সালে ২২৬ জন, ২০১৬ সালে ৩৯১ জন, ২০১৭ সালে ৩৮৮ জন, ২০১৮ সালে ৩৫৯ জন, ২০১৯ সালে ৪০১ জন, ২০২০ সালে ৪২৭ জন, ২০২১ সালে ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন, ২০২৩ সালে ৩২২ জন, ২০২৪ সালে ২৭১ জন এবং ২০২৫ সালে ১৭৩ জন বজ্রপাতে মারা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে ধরা খেল খুনি, প্রকাশ্যে রোমহর্ষক তথ্য

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা: র‍্যাব

দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ: ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন

এবার এলপিজি কার্ডের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী কারাগারে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত