Ajker Patrika

ঢাকায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, শিশুদের জন্য সতর্কতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ঢাকায় বাড়ছে বায়ুদূষণ, শিশুদের জন্য সতর্কতা
ছবি: আজকের পত্রিকা

গতকাল সারা দিন বৃষ্টি হলেও আজ সকালে রাজধানীর বাতাসের দূষণের মাত্রা বেশ বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত বৃষ্টি হলে বায়ুদূষণের মাত্রা কমে আসে। তবে ঢাকার আজকের বায়ুমান শিশুদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আইকিউএয়ারের সকাল ৮টা থেকে ৯টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বে সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৭ম, যা গতকাল ছিল ১৯তম। আর ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১২৮, যা গতকাল ছিল ৮৭।

গতকাল ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও আজ শিশু ও বৃদ্ধদের মতো সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে।

তবে রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সহনীয় থেকে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৬৫, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।

র‍্যাঙ্কিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— ধানমন্ডি, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, বারিধারা পার্ক রোড, গুলশান লেক পার্ক, উত্তর বাড্ডা, গোড়ান ও গুলশান ২-এর রব ভবন।

বিশ্বজুড়ে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে উগান্ডার কাম্পালায়। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ২৬৬, যা খুব অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।

আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৭১, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), বাহরাইনের মানামা (১৬৫, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৫১, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও পাকিস্তানের লাহোর (১৩৪, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর)।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বাতাসের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত