শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

মঞ্চে আসছে নাট্যদল শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’। মনোজ মিত্র রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু। এটি শৌখিন থিয়েটারের ১২তম প্রযোজনা। ১০ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে পালিয়ে বেড়ায় নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী।
মনোজ মিত্র রচিত নাটকটি মানুষের মনস্তত্ত্ব, পলায়নপর মানসিকতা, শিকড়হীন জীবন এবং বাস্তবতার সঙ্গে মানুষের নিরন্তর দ্বন্দ্বের এক অনন্য নাট্যচিত্র। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র রূপচাঁদ একজন শিকড়ছেঁড়া, ভবঘুরে মানুষ, যে সমাজ ও সংসারের চোখে অপদার্থ। জীবনের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই তার, নেই কোথাও স্থায়ীভাবে থিতু হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। দায়িত্ব, কর্তব্য, সম্পর্ক কিংবা জীবনের জটিল সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সে বারবার পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়।
রূপচাঁদের এই পালিয়ে বেড়ানো শুধু স্থান পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা তার অন্তর্গত ভীতি, দ্বিধা, অসহায়ত্ব এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ। জীবনের নানা বাঁকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় ও মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় সমাজের বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনসংগ্রাম, স্বার্থপরতা, মানবিকতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অস্তিত্বের সংকট।
নির্দেশক হামিদুর রহমান পাপ্পু বলেন, ‘মনোজ মিত্রের রচনায় প্রান্তিক মানুষের জীবন, ব্যক্তিমানুষের মনস্তত্ত্ব এবং সমাজের নানা অসংগতির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। মনোজ মিত্রের পালিয়ে বেড়ায় নাটকটি ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত তাঁর নাট্যরচনাগুলোর অন্যতম। এই নাটকে রূপচাঁদের বিচিত্র জীবনযাত্রার আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের চিরন্তন মনস্তাত্ত্বিক সংকট এবং বাস্তবতা থেকে পালানোর প্রবণতার এক গভীর জীবনদর্শন। শেষ পর্যন্ত রূপচাঁদের পালিয়ে বেড়ানো শুধু একজন মানুষের গল্প নয়, বরং জীবনের দায় ও বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াতে দ্বিধাগ্রস্ত প্রতিটি মানুষেরই এক প্রতীকী আখ্যান।’
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপু মাহমুদ, জাবেদ হামিদ, জয়া আহমেদ, রায়হান হোসেন, রাশিদুল হাসান লিটন, বর্ষা ঘোষ, আশরাফুল ইসলাম নয়ন, আজমিরা কান্তা, ফারহানা হামিদ, হামিদুর রহমান পাপ্পু প্রমুখ। মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় আছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, পোশাক ও রূপসজ্জা পরিকল্পনায় শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, সংগীত পরিকল্পনা ও কোরিওগ্রাফি করেছেন মো. আলমগীর।






-fc24e2-256x144.webp)


