Ajker Patrika

ভারত ও ইসরায়েলে বাধার মুখে ভেনিসে পুরস্কৃত নির্মাতারা

বিনোদন ডেস্ক
ভারত ও ইসরায়েলে বাধার মুখে ভেনিসে পুরস্কৃত নির্মাতারা
নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জর। ছবি: সংগৃহীত

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে তাঁদের কাজ, জিতেছে বড় পুরস্কারও। কিন্তু নিজেদের দেশেই চরম রাজনৈতিক রোষ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন দুই ভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতারা। তাঁরা হলেন গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা ইসরায়েলি নির্মাতা জুটি ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জর, অন্যজন ভারতের স্বাধীন ধারার তরুণ নারী নির্মাতা অনুপর্ণা রায়।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারির চিত্র তুলে ধরে গত বছর সেরা তথ্যচিত্রের অস্কার জিতেছিল ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জরের ‘নো আদার ল্যান্ড’। বিশ্বমঞ্চে সেই তথ্যচিত্র আলোড়ন তৈরির পর এবার ৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গাজাভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’র জন্য স্পেশাল জুরি প্রাইজ জিতেছেন তাঁরা। উৎসবে প্রদর্শনী শেষে প্রামাণ্যচিত্রটি টানা সাড়ে ২৪ মিনিট স্ট্যান্ডিং ওভেশন (দাঁড়িয়ে হাততালি) পায়, যা উৎসবের ইতিহাসের দীর্ঘতম। এতে ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যার পেছনের সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এই অর্জনের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন খোদ ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। প্রামাণ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে নির্মাতাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে তোপ দাগেন তিনি। এমনকি তাঁদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলেরও সরাসরি হুমকি দিয়েছেন এই মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ইহুদি-বিদ্বেষীদের হাততালি পেতেই নিজের দেশকে আঘাত করেছেন এই নির্মাতারা।

একই সময়ে প্রায় অভিন্ন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন ভারতের তরুণ স্বাধীন নির্মাতা অনুপর্ণা রায়। গত বছর ভেনিসের হরাইজনস বিভাগে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘সংস অব ফরগটেন ট্রিজ’-এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই নির্মাতা। অথচ এ বছর নিজ দেশে মুক্তি দিতে চাইলে সিনেমাটির মুক্তি আটকে দিয়েছে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড।

অনুপর্ণা রায়। ছবি: সংগৃহীত
অনুপর্ণা রায়। ছবি: সংগৃহীত

সেন্সর বোর্ড থেকে সিনেমাটিকে ‘সমাজের জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অনুপর্ণা বলেন, ‘তারা আমাকে ডেকে বলেছে, সিনেমাটি নাকি সমাজের জন্য হুমকি! সংস অব ফরগটেন ট্রিজের মতো একটি সিনেমা কীভাবে সমাজের জন্য হুমকি হতে পারে?’ সেন্সরশিপের কড়াকড়িতে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে অনুপর্ণা রায় আরও বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক উৎসবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি, দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছি; অথচ আমাকে এমন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হলো।’

অনুপর্ণা মনে করেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে তাঁর অবস্থানের কারণেই সেন্সর বোর্ডের এই রোষানলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অবশ্য প্রথম সিনেমা নিয়ে নিজের দেশে বাধার মুখে পড়লেও থেমে যাননি তিনি। এ বছর ভেনিস উৎসবে তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা ‘লাভারস অব দ্য ব্লু নাইট’ জিতে নিয়েছে সেরা এশীয় সিনেমার নেটপ্যাক পুরস্কার। মুম্বাইয়ে অভিবাসীদের দারিদ্র্য, বেদনা ও অনুভূতির আখ্যান ফুটে উঠেছে এই সিনেমায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত