Ajker Patrika

শাওলিন সকারের স্পিন-অফের রেকর্ড ব্যবসা চীনে, কোরিয়ায় তীব্র বিতর্ক

বিনোদন ডেস্ক
শাওলিন সকারের স্পিন-অফের রেকর্ড ব্যবসা চীনে, কোরিয়ায় তীব্র বিতর্ক
‘কুং ফু সকার’ সিনেমার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

মার্শাল আর্টস ও ফুটবলের সংমিশ্রণে তৈরি স্পোর্টস-কমেডি ‘শাওলিন সকার’ বিশ্বজুড়ে তুমুল সাড়া ফেলেছিল। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমায় দেখানো হয়েছিল একদল শাওলিন সন্ন্যাসীর ফুটবল বিশ্বজয়ের গল্প। হংকংয়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা স্টিফেন চৌ সিনেমাটি পরিচালনা করেন এবং অভিনয় করেন প্রধান চরিত্রে। দীর্ঘ ২৫ বছর পর শাওলিন সকারের পরের পর্ব নিয়ে এসেছেন তিনি। নাম রাখা হয়েছে ‘কুং ফু সকার’। এটিকে বলা হচ্ছে, শাওলিন সকারের স্পিরিচুয়াল স্পিন-অফ।

শাওলিন সকারে ছিল পুরুষ সন্ন্যাসীদের ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প, তবে কুং ফু সকার সিনেমায় এসেছে বড় পরিবর্তন। এর গল্প গড়ে উঠেছে একদল সংগ্রামী ও সাধারণ নারীকে কেন্দ্র করে, যারা নিজেদের ফুটবল ক্লাবকে রক্ষার তাগিদে মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে বেছে নেয় মার্শাল আর্টস ও কুং ফুর দুর্দান্ত সব কৌশল।

কুং ফু সকার সিনেমাটি চীনে মুক্তি পেয়েছে ১১ জুলাই। মুক্তির পরপরই সিনেমাটি চীনের বক্স অফিসে রীতিমতো সুনামি বইয়ে দিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি ট্র্যাকার মাওয়ান জানিয়েছে, মুক্তির মাত্র ২৭ মিনিটের মধ্যে টিকিট বিক্রির অঙ্ক ১০০ মিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়। প্রথম দিনেই আয় করে ২৬০ মিলিয়ন ইউয়ান। আর প্রথম তিন দিনের মাথায় ৬০০ মিলিয়ন ইউয়ান আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে। এটি চীনের বাজারে এই বছরের অন্যতম দ্রুততম বাণিজ্যিক সাফল্য। স্টিফেন চৌয়ের সিগনেচার কমেডি স্টাইলের সঙ্গে নারী ফুটবলার ও কুংফুর নতুন থিম সব বয়সী দর্শকদের সিনেমা হলে টেনে আনছে।

চীনের বক্স অফিসে ঝড় তুললেও কুং ফু সকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নারী ফুটবল দলকে নেতিবাচক, অহংকারী ও অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে।

সিনেমার গল্পে কোরিয়ার ইভা উইমেনস সকার টিম নামের একটি কাল্পনিক দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে কোরিয়ান খেলোয়াড়দের মেকআপ ও লেন্স পরা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকা, রেফারিকে ফাঁকি দিয়ে নোংরা ফাউল করা এবং মাঠে প্রতারণার আশ্রয় নিতে দেখা গেছে ট্রেলারে। কোরিয়ান সমালোচকদের অভিযোগ, এসব দৃশ্যের মাধ্যমে স্টিফেন চৌ কমেডির নামে কোরিয়ান নারী ও তাদের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে হেয় করেছেন।

সিউলের সংশিন উইমেনস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সমাজকর্মী স কিয়ং দক সংবাদমাধ্যম দ্য কোরিয়া টাইমসকে বলেন, ‘একটি সিনেমা যতই কাল্পনিক বা কমেডি ঘরানার হোক না কেন, প্রতিবেশী দেশের খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে এভাবে অবমাননা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ আগস্ট মাসে কুং ফু সকার সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই এই আপত্তিকর দৃশ্যগুলো সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার অথবা সংশোধনের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত