জাপানের কানাজাওয়া শহরের রাস্তায় হাঁটলে কিংবা সেখানকার গবেষণাগারে প্রবেশ করলে নিজেকে আর পুরোপুরি বিদেশি মনে হয় না; বিশেষ করে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (জেএআইএসটি) অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভাদ কুহসারির ল্যাবে প্রবেশ করলে মনে হবে, এটি বাংলাদেশের কোনো ক্ষুদ্র ক্যাম্পাস। সেখানে গবেষণার টেবিলে বাংলাদেশি তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি এখন স্পষ্ট। সাশ্রয়ী টিউশন ফি এবং বিশ্বমানের গবেষণা আর নিরাপদ জীবনযাত্রার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জাপান এখন উচ্চশিক্ষার এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। অধ্যাপক কুহসারির ‘আরবান ডিজাইন সায়েন্স ফর হেলথ’ ল্যাব তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। মো. সাব্বির হোসেন খান জেএআইএসটিতে পিএইচডির তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। এই ল্যাবের অভিজ্ঞতা এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভাদ কুহসারি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন গবেষক। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ মূল্যায়নে (২০২১-২০২৫) তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। নগর-পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবর্তন—এই চার ক্ষেত্রকে সমন্বিত করার মধ্য দিয়ে নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা তৈরি করছে তাঁর গবেষণাগার। তবে এই ল্যাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে গবেষকদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। বর্তমানে ল্যাবের ৮০ শতাংশের বেশি সদস্য বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী।
অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভাদ কুহসারি বলেন, তাঁর ল্যাব মূলত গবেষণা করে, কীভাবে নগর-নকশা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। হাঁটাচলা, সক্রিয় জীবনধারা, পার্ক ও খোলা জায়গা, বয়স্ক মানুষের জীবনমান ও পরিবেশদূষণ—এসব বিষয়ে এখানে গবেষণা পরিচালিত হয়। জাভাদ কুহসারির ভাষায়, ‘আমরা নগর-নকশাকে শুধু স্থাপত্য হিসেবে না দেখে বরং বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করি। আমাদের লক্ষ্য এমন গবেষণা করা, যা বাস্তব জীবনের পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে কাজে লাগবে।’
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অধ্যাপক কুহসারির অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা খুব পরিশ্রমী। তাঁরা নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে মানিয়ে নিতে পারেন। গবেষণার পদ্ধতি শেখার প্রতি তাঁদের আগ্রহ অনেক বেশি।

তাঁরা একে অপরকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি আরও বলেন, বিদেশে পড়াশোনা সবার জন্যই কঠিন, তাই নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের সেই পরিবর্তনের সময় সহায়তা করা।
বাংলাদেশ থেকে যাঁরা জাপানে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাঁদের জন্য অধ্যাপক কুহসারির পরামর্শ হলো, আগে থেকে কিছু জাপানি ভাষা শিখে আসা উচিত। এ ছাড়া দৈনন্দিন সংস্কৃতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম জানা, নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, বিষয় সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো পড়ে নেওয়া। তাঁর মতে, এসব প্রস্তুতি যদি আপনার থাকে, তাহলে জাপানে পড়াশোনা অনেক সহজ হয়।
অধ্যাপক কুহসারি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাঁর ল্যাবে নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমি এমন শিক্ষার্থীদের চাই, যাঁরা কঠোর গবেষণার জন্য প্রস্তুত এবং দলগতভাবে কাজ করতে চায়।’ বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর আগ্রহও কম নয়। শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার খেয়ে তিনি বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ পেয়েছেন, আর ঢাকার মতো শহরের নগর-পরিবেশ নিয়ে সরাসরি গবেষণা করার ইচ্ছাও তিনি প্রকাশ করেছেন।
জাপানের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের তত্ত্বাবধান এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন একধরনের শিক্ষা-পথ। যাঁরা গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাঁদের জন্য জাপান এখন শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং শক্তিশালী গন্তব্য।
জাপানে সামগ্রিক জীবনযাত্রার পরিবেশ অত্যন্ত পরিষ্কার, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক এবং মনোযোগী পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করে থাকে। বিশেষ করে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জেএআইএসটি) বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত সুবিধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী আবাসন (ডরমিটরি) রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল এবং আরামদায়কভাবে বসবাস করতে পারে।
এই আবাসিক ক্যাম্পাসের পরিবেশ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেখানে আমি স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছি। জেএআইএসটিতে একজন শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিমাসে গড়ে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (টিএ), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (আরএ), ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (এলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অ্যাসিস্ট্যান্টের (ইউএ) মতো বিভিন্ন একাডেমিক সহায়ক কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নোমি শহর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগও থাকে।
এসব সুযোগ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষাসংক্রান্ত খরচের একটি বড় অংশ, কখনো কখনো সম্পূর্ণ বহনে সক্ষম। এ ছাড়া বিভিন্ন বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখানে পড়াশোনা করা আরও সহজ ও সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে।

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্ভাবক ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে আনতে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (অস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের টেক্সটাইল উৎসব ‘লাইফ টেক্সটাইল প্রাইভেট লিমিটেড প্রেজেন্টস এএটিসিসি টেক্সটাইল উইক ২০২৬-টেক্সাথন’।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্য সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি চিভেনিং স্কলারশিপ ২০২৭-এর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। চিভেনিংয়ের আওতাভুক্ত দেশের নাগরিকেরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির সুযোগ পান।
১২ ঘণ্টা আগে
সারা দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ। কিন্তু চলতি বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ শিক্ষার্থী। এ হিসাবে একাদশ শ্রেণিতে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি আসন; যা মোট আসনের অর্ধেকের বেশি।
১৮ ঘণ্টা আগে
অফিস আদেশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন-এর অসুস্থতা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজম খানকে সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হলো...
১ দিন আগে