চলতি শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে চীনের বিভিন্ন শহরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এআই শিক্ষার নতুন পাঠ। কোথাও পাঠের বিষয় ‘এআইকে বোঝা’, কোথাও ‘এআই ব্যবহার’। ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে এআই কীভাবে ভালোভাবে ব্যবহার করতে হয়। একই সঙ্গে এআইয়ের দেওয়া তথ্যকে কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়, তা-ও শেখানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা ভবিষ্যতে পড়াশোনা ও কর্মজীবনে বুদ্ধিমান প্রযুক্তির সঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।
পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের নানচিং কেলিহুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম এআই ক্লাসটি ছিল বেশ অন্য রকম। ক্লাসের বিষয় ছিল ছবি শনাক্তকরণ। ট্যাবলেট হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ছোট ছোট কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখেছে। তাদের কাজ ছিল এমন একটি বুদ্ধিমান বিক্রয়যন্ত্রের কার্যপ্রণালি তৈরি করা, যা সামনে রাখা ফল চিনতে পারে। পরীক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার ভুল করেছে। আবার প্রোগ্রাম ঠিক করেছে। শেষ পর্যন্ত এসেছে সাফল্য।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিউ ইয়ানচ্য বলল, ‘আজ আমরা বারবার প্রোগ্রাম ঠিক করার চেষ্টা করেছি। অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোবট যখন কমলালেবু চিনতে পারল, তখন আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছিলাম।’
সে আরও বলল, ‘তখন বুঝতে পেরেছি, ছবি শনাক্তকরণ কোনো জাদু নয়। এর পেছনে রয়েছে বিপুল প্রশিক্ষণ তথ্য।’
শুধু আলাদা বিষয় হিসেবে নয়, চীনের অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানের মধ্যেও এআই যুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে, এআই শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে, কিন্তু তাদের হয়ে চিন্তা করবে না। বেইজিং ন্যাশনাল ডে স্কুলের চীনা ভাষার ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রাচীন পাথরের সেতু সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে এআই ব্যবহার করছে। ভূগোলের ক্লাসে এআইয়ের সাহায্যে বিশ্লেষণ করছে সম্পদনির্ভর শহরগুলোর অর্থনৈতিক পরিবর্তন।
বিদ্যালয়ের তথ্যকেন্দ্রের পরিচালক সোং ইয়ান বলেন, ‘বাস্তব জীবনের বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এআইয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে, আমরা তাদের সেই অভিজ্ঞতা দিতে চাই।’
তবে এআই ব্যবহারের আগে শিক্ষার্থীদের নিজেরাই ভাবতে বলা হয়। প্রথমে সমস্যাটি নিয়ে চিন্তা করতে হয়। এরপর নিজেদের চিন্তা ও সমাধানের পদ্ধতি লিখতে হয়। চীনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর বেশ কয়েকটি প্রাদেশিক অঞ্চল এআই শিক্ষার জন্য নিজস্ব পাঠ্যক্রম নির্দেশিকা ও শিক্ষাদান কাঠামো তৈরি করেছে।
চিয়াংসু প্রদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এআই শিক্ষা পুরোপুরি চালু করা হয়েছে।
পূর্ব চীনের শানতোং প্রদেশেও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অংশ হিসেবে এআই পাঠ চালু হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে অন্তত ছয়টি ক্লাস রাখা হয়েছে। তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে অন্তত আটটি ক্লাস নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিচিতি’ নামে একটি ঐচ্ছিক বিষয় বেছে নিতে পারবে।
চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে এআই শিক্ষাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক এআই শিক্ষা কেন্দ্রও শক্তিশালী করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোকে।
তথ্যসূত্র: সিএমজি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখছেন অনেক শিক্ষার্থী। কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, নিয়মিত অনুশীলন, মডেল টেস্ট ও সময়ের সঠিক ব্যবহারে প্রস্তুতি আরও গোছানো যায়।
৩ মিনিট আগে
২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে মান্দারিন (চীনা), জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান ও আরবি ভাষাসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাগত ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির...
১৩ ঘণ্টা আগে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লিখিত ও ভাইভাতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তালিকায় নাম না থাকা অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ
১৫ ঘণ্টা আগে
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে