প্রশ্ন: রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজিস, মেকানিকস অ্যান্ড অপটিকসে পড়ার সুযোগ পেলেন, অনুভূতি কেমন?
উত্তর: রাশিয়ান সরকারের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। আমি ভবিষ্যতে বিশ্বসেরা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চাই।
প্রশ্ন: বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, এটি কি স্বপ্ন ছিল?
উত্তর: জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায়। ছোটবেলা থেকে একজন ভালো মানুষ হওয়ার সংকল্প ছিল। কম্পিউটার, ইন্টারনেটের প্রতি আগ্রহ থাকায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।
প্রশ্ন: আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর: আমার বাবা মাদ্রাসাশিক্ষক এবং মা গৃহিণী। বাবার হাত ধরেই পড়াশোনার হাতেখড়ি। প্রাথমিকের পাট চুকিয়ে বন্ধুরা সরকারি স্কুলে ভর্তি হয়। বাবা আমাকে ভর্তি করান আলিয়া মাদ্রাসায়। জেডিসি পরীক্ষায় ৪.৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হই। পরে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। তখন থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতাম। দাখিলে জিপিএ-৫ পেয়েছি। এরপর আমার বেশির ভাগ বন্ধু কলেজে ভর্তি হলেও আমি মাদ্রাসায় থেকে যাই। পুরোদমে পড়াশোনা চালিয়ে যাই। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও চলতে থাকে।আলিম পরীক্ষার সময় থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য তথ্য ঘাঁটাঘাঁটি করতে থাকি। এরপর আলিমে জিপিএ-৫ পাই। এরপর থেকেই স্বপ্ন দেখি বিদেশে বৃত্তি নিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করব।
প্রশ্ন: কী ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে পারদর্শী ছিলাম। করোনা মহামারির সময়ে রাজশাহীর সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হেল্প পিপলে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করি। পাশাপাশি বিতর্ক ক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। আমেরিকান কর্নারে কম্পিউটার কোর্স করি। ইউনিসেফ থেকে শিশুদের জন্য কাজ করি। এ ছাড়া ফিজিকস অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করি। আর ইংরেজি স্পিকিং স্কিল বাড়াতে ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করি।
প্রশ্ন: আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে রাশিয়ায় বা আইটিএমও ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখলেন কখন থেকে?
উত্তর: উচ্চমাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার নানা বিষয় নিয়ে খোঁজ রাখতে শুরু করি। একদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষাবৃত্তি দেখতে পাই। তখন থেকে রাশিয়ার ইউনিভার্সিটি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে বুঝতে পারি, আইটিএমও আমার জন্য উত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হবে।
প্রশ্ন: আইটিএমও ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়ার গল্প শুনতে চাই। প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছিলেন?
উত্তর: রাশিয়ার সরকারি বৃত্তির তথ্য পাওয়ার পর প্রস্তুতি শুরু করি। শুরুতে আমার উচ্চমাধ্যমিকের ও মাধ্যমিকের সনদগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সত্যায়িত করতে হয়। সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সনদগুলো গুছিয়ে নিই। মোটিভেশনাল লেটার ও রেফারেন্স লেটার সংগ্রহ করি। এরপর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অনলাইনে আবেদন করি। আবেদন কপি, একাডেমিক কাগজপত্র, কো-কারিকুলাম সার্টিফিকেট, মোটিভেশনাল লেটার ও রেফারেন্স লেটার সংগ্রহ করে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে জমা দিই। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে ইন্টারভিউর জন্য রাশিয়ান অ্যাম্বাসিতে ডাকা হয়। ১০ হাজারের মধ্যে মাত্র ৭০ জনকে ডাকা হয়। ইন্টারভিউর সময় ভয়ে ছিলাম। তবে কঠিন ইন্টারভিউটি সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে শেষ করি। কয়েক দিন পর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাই।
প্রশ্ন: কোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে কি?
উত্তর: অবশ্যই। এত লম্বা পথ পাড়ি দিতে আমাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হওয়ায় অনেকের অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। স্বপ্নে ছিলাম অটল এবং পরিশ্রমে ছিলাম সৎ। এখন স্বপ্ন দেখি আইটিএমও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে টেক-জায়ান্টে কাজ করতে। সবাইকে দেখাতে চাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আজ আর পিছিয়ে নয়।
প্রশ্ন: আবেদনে প্রয়োজনীয় কী কী কাগজপত্র লাগবে?
উত্তর: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে উচ্চমাধ্যমিকের সনদ ও নম্বরপত্র শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত কপি। পাশাপাশি কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিস ও অলিম্পিয়াড। যদি আইইএলটিএস থাকে, তাহলে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকা যায়। এর সঙ্গে মোটিভেশনাল লেটার এবং কলেজের শিক্ষকের কাছ থেকে দুটি রেফারেন্স লেটার; এগুলো প্রয়োজন হয়। আবেদনের যোগ্যতা মূলত ৬০% নম্বর পেলেই হয়। কিন্তু ভালো ফল ছাড়া তারা গ্রহণ করে না।
প্রশ্ন: আইটিএমও ইউনিভার্সিটিতে কী কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে?
উত্তর: এই স্কলারশিপে প্রথমত আমার টিউশন ফি ফুল ফ্রি। পাশাপাশি অ্যাকোমোডেশন এবং মাসিক অর্থ প্রদান করবে। রাশিয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম হিসেবে কাজ করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন পড়াশোনার কোনো ক্ষতি না হয়। পড়াশোনার ক্ষতি হলে স্কলারশিপ বাতিল করে দেয়।
প্রশ্ন: নতুন যাঁরা আইটিএমও ইউনিভার্সিটিতে পড়তে চান, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
উত্তর: আইটিএমও বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের মাধ্যম। এখানে পড়তে উচ্চমাধ্যমিক বা সর্বশেষ অ্যাকাডেমিক ফল বেশ ভালো হতে হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে থাকলে বেশ উপকারে আসবে। আর মাদ্রাসায় পড়েন বলে কেউ নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। চেষ্টা থাকলে সফলতা আসবেই।

বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগপদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে নয়, বরং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে দেওয়া হবে শিক্ষক নিয়োগ। ইতিমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন...
৪ মিনিট আগে
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে আন্তবিভাগীয় প্রতিযোগিতা ‘টেক্সটাইটান্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
বছর যায়, বছর আসে। সময়ের অবিরাম প্রবাহে মানুষের জীবনে জমা হয় অসংখ্য স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা। পুরোনোকে বিদায় এবং নতুনকে বরণে যখন সবাই ব্যস্ত, তখন দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠকবন্ধু শাখাগুলোও বসে থাকেনি।
১২ ঘণ্টা আগে
বৈশাখের ছোঁয়ায় নতুন রূপে সেজেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অপরূপ ছায়াঘেরা সবুজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো গাছগুলো যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে নবজীবনের এক বার্তা। কোথাও রক্তরাঙা ফুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা, আবার কোথাও ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে আম ও লিচুগাছ।
১৩ ঘণ্টা আগে