
পড়ার টেবিলে বসে আছে রাফি। ১০ মিনিট পর দেখা যায় সে বই রেখে মোবাইলে স্ক্রল করছে। আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বইয়ের দিকে তাকাচ্ছে। আসলে তার পড়ায় মন বসছে না। ‘পড়তে মন চাইছে না’—এ কথাটি আজকাল শিক্ষার্থীদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ‘মন চাইছে না’ কি আসলে মস্তিষ্কের কাজ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?
চলুন জেনে নেওয়া যাক, পড়ার সময়ে অলস লাগলে বা পড়ায় মন না বসার কারণ নিয়ে—
গবেষকেরা বলছেন, অলসতা অনেকটাই মস্তিষ্কের নিউরোকেমিক্যাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয়, কাজ শুরু করে এবং শেষ করে—এই তিনটি প্রক্রিয়া মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা সিস্টেম মেনে। এর মূল তিনটি অংশ হলো—
যখন এ সিস্টেমের সমন্বয় হারায়, তখন শিক্ষার্থী নিজেকে অলস মনে করতে শুরু করে। বই পড়তে বসলেও মন বসে না, কাজ জমা দেওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত দেরি হয়, সহজ কাজও ভারী মনে হয়। এটি কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়; বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
কেন মস্তিষ্ক কাজ শুরু করতে চায় না?
নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, মস্তিষ্ক প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনা করে—১. কাজটি করতে কতটা মানসিক শক্তি লাগবে এবং ২. কাজটি করলে কী ধরনের ফল বা আনন্দ পাওয়া যাবে। যখন ফলাফলের মান কম মনে হয়, মস্তিষ্ক কাজ এড়িয়ে যেতে ‘সেফ মোডে’ চলে যায়। শিক্ষার্থীরা তাই বলে, ‘আজ কেমন যেন লাগছে, পরে করি।’
প্রতিটি অংশের ভূমিকা
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অলসতা বাড়ার কারণ
শুধু মস্তিষ্ক নয়, পরিবেশ ও আধুনিক জীবনের চাপও গুরুত্বপূর্ণ। আজকের শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় বেশি তথ্য, প্রতিযোগিতা এবং বিভ্রান্তির মধ্যে বড় হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস, কোচিং ও পরীক্ষার চাপ, ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের মোটিভেশন সিস্টেমকে ক্লান্ত করে। মনস্তাত্ত্বিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যর্থতার ভয়—কাজ ভুল হতে পারে এ ধারণা— শুরু করার আগে থামিয়ে দেয়। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাও বাধা। লক্ষ্য যদি অস্পষ্ট বা খুব বড় হয়, যেমন ‘পুরো সিলেবাস শেষ করতে হবে,’ মস্তিষ্ক কাজটিকে চাপ হিসেবে দেখে। কম আত্মবিশ্বাস, ‘আমি পারব না’—ধারণাও অলসতা বাড়ায়।
কীভাবে এই সেফ মোড নিয়ন্ত্রণে আনা যায়
শিক্ষার্থীরা কিছু কৌশল মেনে মোটিভেশন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে—
অলসতা কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়; এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, ক্লান্তি, চাপ, ডোপামিনের ওঠানামা এবং পরিবেশগত প্রভাবের ফল। পরিবর্তনের পথ হলো মস্তিষ্ককে বোঝা এবং তার কাজের ধরন অনুযায়ী কৌশল তৈরি করা। ছোট পদক্ষেপে এগোলে ধীরে ধীরে ‘আমি পারব না’ বা ‘এখন নয়’ ধরনের প্রতিক্রিয়া কমে আসে, আর উদ্যম ফিরে আসে। সত্যিকারের শক্তি আমাদের ভেতরেই আছে—শুধু মস্তিষ্ককে তার নিজস্ব ছন্দে একটু পথ দেখাতে হবে।

উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেয়েছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।
৩৮ মিনিট আগে
শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়িয়ে পরিসংখ্যানে ‘মিথ্যা বার্তা’ দেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে পুরো শিক্ষা খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ...
৮ ঘণ্টা আগে
ইচ্ছা করলেই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কথা বলা যায় মুঠোফোনে কিংবা খুদে বার্তায়। তবু সব কথা কি আর বলা হয়ে ওঠে? কিছু কথা থেকে যায় মনের গহিনে, কিছু অনুভূতি মুখে এসে থেমে যায়। স্মৃতি, মান-অভিমান, ভালোবাসা এবং না-বলা কথাগুলো তাই কখনো কখনো খুঁজে নেয় চিঠির কাগজ।
৯ ঘণ্টা আগে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশ গ্রিসে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী লিখন কুণ্ডু। দেশটির ইন্টারন্যাশনাল হেলেনিক ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি বিল্ডিং ডিজাইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে