সম্প্রতি আমি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাপাপোর্ট পাবলিক পলিসি ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়েছি। এই পথটা আমার জন্য আসলে একদিনে তৈরি হয়নি; বরং ধীরে ধীরে এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। আমার বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরে।
স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রে আসি। এখন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনে পাবলিক পলিসিতে পিএইচডি করছি। এর পাশাপাশি ম্যাসাচুসেটস স্টেট হাউসে লেজিসলেটিভ ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রথম শুনি স্নাতকে পড়ার সময়। তখন নোবেল বিজয়ীদের গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে পড়তে গিয়ে দেখি, তাঁদের অনেকে হার্ভার্ডের সঙ্গে যুক্ত। কেউ শিক্ষক, কেউ গবেষক। সেখান থেকে বুঝতে শুরু করি, এই বিশ্ববিদ্যালয় কতটা মর্যাদাপূর্ণ এবং বিশ্বের অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের কেন্দ্র।
তবে তখনো ভাবিনি, হার্ভার্ডের কোনো প্রোগ্রামে সুযোগ পাব। এর পেছনে বড় কারণ ছিল নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। পরে হার্ভার্ড র্যাপাপোর্ট পাবলিক পলিসি ফেলোশিপ সম্পর্কে জানতে পারি। শুরুতে আমি দ্বিধায় ছিলাম, আবেদন করব কি না, আদৌ সুযোগ পাওয়া সম্ভব কি না। কারণ, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম। শেষ পর্যন্ত মনে হলো, চেষ্টা না করলে আফসোস থেকে যাবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকে আবেদন করি এবং নির্বাচিত হই। তবে আজও মনে হয়, কয়েক বছর আগেও ভাবিনি, আমি বোস্টনে থাকব, সেই শহরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত।
বিভিন্ন ফেলোশিপ খুঁজতে গিয়ে এই প্রোগ্রামের কথা জানতে পারি। সাধারণত অক্টোবর মাসে আবেদন শুরু হয় এবং জানুয়ারিতে শেষ হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ ছিল—আবেদনপত্র, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অংশ। শুরুতে অনেক দ্বিধা কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, এত প্রতিযোগিতার মধ্যে আদৌ কিছু হবে কি না। বারবার নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম, ‘আমি কি এই জায়গার জন্য প্রস্তুত?’ তবু একসময় সিদ্ধান্ত
নিই চেষ্টা করার। তখন কোনো বড় প্রত্যাশা ছিল না; বরং মনে হয়েছিল, এবার না হলে পরেরবার আবার চেষ্টা করব। এ ধরনের সুযোগে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ভার্ড র্যাপাপোর্ট পাবলিক পলিসি ফেলোশিপ এমন একটি প্রোগ্রাম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল এবং ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন স্টেট ও লোকাল গভর্নমেন্টের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে এবং বাস্তবে সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা সরাসরি দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। পাবলিক পলিসিতে আমার পড়াশোনার কারণে এই ফেলোশিপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বই বা ক্লাসে নীতিনির্ধারণ নিয়ে পড়লেও বাস্তব প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। এই প্রোগ্রাম সেই অভিজ্ঞতাই দেবে।
আবেদনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমাকে একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব করতে হয়েছিল। আমি ‘পে ট্রান্সপারেন্সি’ বা বেতন স্বচ্ছতা বিষয়ে একটি ধারণা উপস্থাপন করেছি। ফেলোশিপের মাধ্যমে এই কাজকে আরও গভীরভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ পাব।
এই প্রোগ্রামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মেন্টরশিপ। প্রোগ্রামটির পুরো সময়ে দুজন মেন্টরের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। তাঁদের একজন বোস্টনের সাবেক মেয়র এবং অন্যজন এই প্রোগ্রামেরই সাবেক ফেলো।
এই অর্জন কোনো একক অভিজ্ঞতার ফল নয়। আমরা প্রায়ই মনে করি, শুধু ভালো একাডেমিক ফলই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ততা এবং নিজের আগ্রহ থেকে কাজ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার আগে হলি ক্রস কলেজে অধ্যয়নকাল থেকে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হই। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ইভেন্ট আয়োজন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং খণ্ডকালীন বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ পাই। পরে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে গবেষণার কাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, পাবলিক সার্ভিসে কাজ, স্টেট হাউসে ইন্টার্নশিপ এবং বিভিন্ন ফেলোশিপ—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে এই পথ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ‘লিসেনিং টু হিল’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছি, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ও ক্ষমতায়নমূলক পরিবেশ তৈরির কাজ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মনে হয়েছে, ছোট ছোট অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিক চেষ্টা এবং আগ্রহ মিলেই বড় একটি পথ তৈরি করে। এ যাত্রায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল আমার পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের সমর্থন—তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
এ ধরনের সুযোগ পেতে চাইলে প্রথমে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা জরুরি। অনেক সময় মনে হতে পারে, এই সুযোগ হয়তো আমার জন্য নয়। কিন্তু চেষ্টা না করলে কখনো জানা যায় না। ব্যর্থতা এলে সেটিকে শেষ হিসেবে না দেখে পরবর্তী চেষ্টা হিসেবে নেওয়া উচিত। শুধু একাডেমিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। নিজের আগ্রহের জায়গাগুলোতে ধীরে ধীরে যুক্ত হওয়াই সবচেয়ে সহায়ক। যদি মনে হয় অভিজ্ঞতা কম, তবু হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সবারই শুরু থাকে। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কাজই ছোট নয়। নিজের ওপর আস্থা রাখুন, ধৈর্য ধরুন এবং নিজের মতো করে এগিয়ে যান।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞানচর্চাকে আরও গতিশীল ও গবেষণামুখী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ‘কসমোলজিক্যাল কনক্লেভ’। গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের অংশগ্রহণে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ আমার জীবনের এক গভীর আবেগময় ও গর্বের মুহূর্ত। একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার জায়গা নয়, এটি মানুষ গড়ার কারখানা। আমি যখন এই দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন মনে হয়েছে, এটি শুধু
২ ঘণ্টা আগে
তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করল পাঠকবন্ধু। গতকাল দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির বিভিন্ন শাখায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসবের মধ্যে ছিল কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ, পাঠচক্র, কর্মশালা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।
৩ ঘণ্টা আগে
চীনের সাংহাইভিত্তিক ইস্ট চায়না বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দল ‘এআই প্লাস পলিমারস ভি৩.০’ নামে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই গবেষণা প্ল্যাটফর্ম চালু করার মধ্য দিয়ে পলিমার উপাদান গবেষণায় প্রচলিত...
৩ ঘণ্টা আগে