বছর যায়, বছর আসে। সময়ের অবিরাম প্রবাহে মানুষের জীবনে জমা হয় অসংখ্য স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা। পুরোনোকে বিদায় এবং নতুনকে বরণে যখন সবাই ব্যস্ত, তখন দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠকবন্ধু শাখাগুলোও বসে থাকেনি। তাদের বর্ষ সমাপন ও বর্ষবরণ কার্যক্রম পায় এক ভিন্নমাত্রা। চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক আয়োজন, মেহেদি উৎসব আর বৈশাখী ঐতিহ্যের উপস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রতিটি আয়োজনকে রূপ দেয় স্মৃতি, সৃজনশীলতা ও বন্ধনের এক উষ্ণ মিলনমেলায়।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার
গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পাঠকবন্ধু আয়োজন করে ‘বর্ষ সমাপন উৎসব ১৪৩২ বঙ্গাব্দ’। পুরোনো বছরকে স্মরণ করে নতুনকে বরণ করার ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের সূচনা হয় চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে। ‘পুরোনো বছর স্মৃতির খাতা, নতুন বছরে স্বপ্নের কথা’ স্লোগানে সাজানো উৎসবে শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবিতে উঠে আসে ব্যক্তিগত অনুভূতি, সময়ের অভিজ্ঞতা আর হার-জিতের গল্প।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক মিলনমেলায়। চিত্রকর্ম ঘুরে দেখে শিক্ষকেরা এই উদ্যোগকে আত্মমূল্যায়নের একটি চর্চা হিসেবে উল্লেখ করেন। এই আয়োজন নতুন বছরের প্রস্তুতিকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
দিনের শেষভাগে গান, আড্ডা ও মেহেদি উৎসবে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। এই আয়োজনে আনন্দ যেমন ছিল, তেমনি ছিল নতুন শুরুর প্রতি নীরব এক প্রত্যয়।

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ
গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বর্ষবরণ উৎসবে পাঠকবন্ধু শাখার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে তারা গ্রামীণ ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে একটি দৃষ্টিনন্দন স্টল তৈরি করে। ঘুড়ি, মাটির পাত্র, শুভেচ্ছা কার্ড এবং বৈশাখী সাজসজ্জায় স্টলটি হয়ে ওঠে লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী।
শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা স্টলটি পরিদর্শন করে ক্লাবের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এই স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ বাঙালি সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করার একটি সুন্দর উদাহরণ। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
মোট ২২টি ক্লাবের অংশগ্রহণ থাকলেও পাঠকবন্ধুর স্টল দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি দলগত পরিকল্পনা এবং সৃজনশীল বাস্তবায়নের সফলতার প্রতিফলন—বলেন পাঠকবন্ধুর সদস্যরা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন হয়ে ওঠে শিকড়, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক প্রাণবন্ত উৎসব। ভোর থেকে রঙিন সাজে সেজে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি এবং বৈশাখী মেলার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি করে উৎসবের উচ্ছ্বাস।
শিক্ষার্থীদের কাছে বৈশাখ মানে নতুন শুরুর পাশাপাশি স্মৃতিচারণার দিন। কেউ পারিবারিক রীতির স্মৃতিচারণ করেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাস-জীবনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। পান্তা-ইলিশ, পিঠা এবং দেশি খাবারের আয়োজন উৎসবকে আরও গভীর ও ঐতিহ্যবাহী করে তোলে।
ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। যেখানে সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব ও আনন্দ মিলেমিশে তৈরি করে এক অবিচ্ছেদ্য উৎসবের আবহ।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে আন্তবিভাগীয় প্রতিযোগিতা ‘টেক্সটাইটান্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
বৈশাখের ছোঁয়ায় নতুন রূপে সেজেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অপরূপ ছায়াঘেরা সবুজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো গাছগুলো যেন চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে নবজীবনের এক বার্তা। কোথাও রক্তরাঙা ফুলে ছেয়ে গেছে ডালপালা, আবার কোথাও ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে আম ও লিচুগাছ।
৪ ঘণ্টা আগে
ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো মেয়ে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি যেমন একটি বড় অপূর্ণতা ছিল, তেমনি ম্রো জনগোষ্ঠীর মেয়েদের জন্যও ছিল এক অপ্রাপ্তি। সেই অপ্রাপ্তি পূরণ করলেন য়াপাও ম্রো।
৪ ঘণ্টা আগে
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (এইউবি) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়।
৪ ঘণ্টা আগে