Ajker Patrika

শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ১৭: ২১
শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী
গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে গেছে। এত বছর পরও কেন আমাদের এই সমস্যাগুলো রয়ে গেছে? কেন আমাদের ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে না? আমাদের ত্রুটি কোথায়? আমি নিজেও এর উত্তর খুঁজে পাইনি।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমি নিজেও প্রায় ২০ বছর আগে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি আমি দেখতে পাইনি। এটা আমার পর্যবেক্ষণ। অথচ ইউনিসেফ মাঠপর্যায়ে কাজ করে আমাদের তথ্য দিয়েছে, বর্তমানে শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থা কী। আমরা হয়তো জানি না অথবা সবাই জানি, কিন্তু স্বীকার করি না।’

শিক্ষার মানোন্নয়নে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে সরকার প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে এর ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ইউনেসকো কমিশন আমাদের ৬ শতাংশ পর্যন্ত যেতে বলেছে। আগের সরকারগুলো কখনো জিডিপির ১ দশমিক ৭০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করেনি। কিন্তু এখন আমরা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।’

তবে এর ফলাফল কী প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকেরাই মূল বিষয়। আর আমরা নীতিনির্ধারকেরাও দায়ী। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রস্তুত—শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করতে, শিক্ষা বিভাগকে উন্নত করতে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের অফিসার, শিক্ষক, প্রশিক্ষকেরা কীভাবে কাজ করছেন আমি জানি না।’

বড় বড় প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে তা কার্যকর কি না সে প্রশ্ন তোলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘কেন গবেষণায় এমন তথ্য আসে যে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়তে পারে না? কেন?’

শিক্ষা ও শিক্ষকের মানোন্নয়নে সরকারের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সেই পথেই এগোতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পিইডিপি-৪ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৫১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পিইডিপি-৫ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে তুলে ধরে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রাথমিক শিক্ষার এই অবস্থা যদি হয়, তাহলে এর জবাব কে দেবে? সরকার তো বিনিয়োগ করছে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।’

শিক্ষার মান নিয়ে মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মসমালোচনা করার তাগদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর নিশ্চুপ বসে থাকতে পারি না। আসুন, সবাই মিলে কাজ করি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে। অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ ব্যয় করছেন। এখন এর ফল আসতেই হবে। শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। এর বাইরে আর কোনো পথ নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে আছি। আমরা জানি আমাদের গন্তব্য কোথায়। তাই আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি, যেমনটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’

‘ব্রিংগিং লার্নিং টু লাইফ: ইনোভেশনস ইন ট্রেনিং, টিচিং, লার্নিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের কর্মকর্তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত