
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছরের পাঠ্যক্রম, ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রস্তুতির পর এখন তাঁদের সামনে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময়। বিশেষ সাক্ষাৎকারে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম আরিফুর রহমান।
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রথমেই বলব, পরীক্ষা নিয়ে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তোমরা ক্লাস, মডেল টেস্ট, নানা পরীক্ষাসহ অনেক ধাপ অতিক্রম করে এই পর্যায়ে এসেছ। এখন সময় হলো সেই প্রস্তুতিকে সুন্দরভাবে কাজে লাগানোর। মনে রাখতে হবে, পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কেবল অনেক পড়লেই হবে না; যা পড়েছ, তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
আমার পরামর্শ হলো, এখন নতুন কিছু পড়ার চেয়ে আগে যা পড়েছ, সেসব বারবার রিভিশন দাও। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, মূল ধারণা, সংজ্ঞা, সূত্র, তত্ত্ব, বারবার আসা প্রশ্ন এবং যেসব বিষয়ে দুর্বলতা বা ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোয় বেশি মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করা উচিত।
অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগের রাতে গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে, অতিরিক্ত চাপ নেয়। ফলে পরীক্ষার হলে ক্লান্তি আসতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো একটু দেখে নেওয়া, পরীক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত। একটি সতেজ মন অনেক বেশি কার্যকরভাবে উত্তর দিতে পারে।
পরীক্ষার হলে প্রথম দায়িত্ব হলো প্রশ্ন ভালোভাবে বোঝা। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন পুরোপুরি না বুঝেই উত্তর লেখা শুরু করে, এটি অনুচিত। উত্তরের ক্ষেত্রে পরিষ্কার উপস্থাপন, ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, উদাহরণ ও যুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে অন্য প্রশ্নে কম সময় বরাদ্দ রাখলে পরীক্ষা খারাপ হতে পারে।
আত্মবিশ্বাস রাখো, তুমি পারবে। পরীক্ষার আগে ভয়, উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভয় যেন তোমার প্রস্তুতি দুর্বল করে না দেয়। নিজেকে কখনো অন্যের সঙ্গে তুলনা করবে না। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও পথ আলাদা। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। পড়াশোনার পাশাপাশি শরীর ও মন ভালো রাখাও জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, পরিমিত খাবার এবং মানসিক প্রশান্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিরই অংশ।
অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই সময়ে সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাদের মানসিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে। অনেক সময় উৎসাহমূলক কথা, ইতিবাচক আচরণ একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। সন্তানকে শুধু ফলাফলের জন্য নয়, তার চেষ্টা ও পরিশ্রমের জন্যও মূল্যায়ন করতে হবে।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনাক্রমে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিজের মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ পায়।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের সামনে অনেক সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। আশা করি, তোমরা ভালো ফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলবে এবং পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: স্বপ্নীল মাহবুব

নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছে ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
১৬ মিনিট আগে
মিসরের হেলওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে বৃত্তির আবেদন আহ্বান করেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আওতায় উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হেলওয়ান বিশ্ববিদ্যালয় মিসরের অন্যতম শীর্ষ সরকারি...
১ ঘণ্টা আগে
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি সামার-২০২৬ সেমিস্টারের নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে গত ২৮ ও ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে তিনটি পৃথক অধিবেশনে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রথম অধিবেশন ২৮ জুন বেলা ৩টায় কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
১০ ঘণ্টা আগে
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস (এসওবিই) উদ্যোগে ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ইউআইইউ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা, অর্থনীতি, সমাজ, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর ও টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক...
১০ ঘণ্টা আগে