Ajker Patrika

রাজশাহী পলিটেকনিকে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রাজশাহী পলিটেকনিকে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশন’-এর রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে রাজশাহী অঞ্চলের ২৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে সেরা ৬টি উদ্ভাবন আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়।

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প আয়োজন করে।

দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর এস এম তাহমিদ সাদিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং লিখিতভাবে তাঁকে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানান।

স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: বিজ্ঞপ্তি
স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: বিজ্ঞপ্তি

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা আজ আর বিকল্প কোনো ধারা নয়, এটি এখন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।’

দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে জাপান-জার্মানির মতো দেশ উন্নতি করেছে, আমাদেরও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সনদ প্রদান নয়, বরং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।’

স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘যুবসমাজকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার এবং কারিগরি শিক্ষা সেই রূপান্তরের প্রধান মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে স্কিলস কমপিটিশন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আমাদের তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।’

তিনি এ সময় নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আঞ্চলিক ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশন’ উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক একটি সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং রাজশাহী বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে তিনটি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কমপিটিশনের জাতীয় পর্ব আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত মোট ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত