Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

জ্ঞানসন্ধানী এক তরুণের বৈশ্বিক যাত্রা: মো. আবদুর রউফ

জ্ঞানসন্ধানী এক তরুণের বৈশ্বিক যাত্রা: মো. আবদুর রউফ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের হটিবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন মো. আবদুর রউফ। হিফজ ও মাদ্রাসাশিক্ষার পাঠ চুকিয়ে তিনি বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান মিসরে। বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক থিওলজিতে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় (আইআইইউএম) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। আল-আজহার এবং আইআইইউএমের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক খান

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ১৫

আপনার পারিবারিক জীবন এবং প্রাথমিক শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই।

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আমি ছোট। পরিবারের সবার স্নেহ ও আদর পেয়ে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। বাবার ইচ্ছা ছিল, সন্তানদের মধ্যে অন্তত একজন যেন কোরআনে হাফেজ হয়। সেই লক্ষ্য থেকে আমার হিফজ শিক্ষার পথচলা শুরু। প্রথমে পাশের গ্রামের একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হই। এরপর ধীরে ধীরে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, নিজের পরিশ্রম এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে হিফজ সম্পন্ন করি। পরে সাভারের আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় হিফজের চূড়ান্ত ধাপ শেষ করি। এরপর ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করি। এরপর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?

ছোটবেলা থেকে নতুন কিছু জানার কৌতূহল ছিল। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন চিন্তাধারা আমাকে আকর্ষণ করত। একাডেমিক জীবনে এগোতে গিয়ে বুঝতে পারি, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে হলে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেকে যুক্ত করা জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেখার এবং কাজ করার সুযোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি বিশ্বাস করি, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান একদিন দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারব।

উচ্চশিক্ষার জন্য মিসরকে কেন বেছে নিলেন?

আমি এমন একটি জায়গায় পড়তে চেয়েছিলাম, যেখানে ইসলামি জ্ঞানচর্চার মূলধারার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা যায়। সে কারণে আরব বিশ্ব আমার প্রথম পছন্দ ছিল। বিভিন্ন জায়গায় বৃত্তির জন্য আবেদন করার পর আল্লাহর রহমতে মিসরে পড়ার সুযোগ পাই। হাজার বছরের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য এবং বিশেষ করে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আল-আজহারে পড়াশোনা জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে এসে বুঝেছি, ইলম অর্জন শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও জীবনদর্শনকে গঠন করে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং গভীর জ্ঞান আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সহপাঠীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়েছে। শুধু একাডেমিক জ্ঞানই নয়, নৈতিকতা এবং আত্মিক উন্নয়নেও সমৃদ্ধ হয়েছি। আল-আজহারকে ‘ইলমের কাবা’ বলা হয়— এখানে এসে কথাটির গভীরতা উপলব্ধি করেছি।

কোর্সের ক্যারিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাই।

ইসলামিক থিওলজি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বিষয়। এখানে কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও আকিদাহ বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এই শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী আলেম, গবেষক বা ইসলামিক স্কলার হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি শিক্ষকতা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থায় কাজ করার সুযোগও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই শিক্ষা একজন মানুষকে নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে।

মিসরে পড়াশোনার জন্য বৃত্তি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি কেমন?

মূলত দুভাবে স্কলারশিপ পাওয়া যায়। একটি দেশের মাধ্যমে সরাসরি, অন্যটি হলো মিসরে ভর্তি হয়ে ভালো ফলের মাধ্যমে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, দাখিল-আলিম সার্টিফিকেট, জন্মসনদ, মেডিকেল সার্টিফিকেট, ছবি এবং প্রয়োজনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। আল-আজহারে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্টেটমেন্ট বা রেফারেন্স লেটার দরকার হয় না।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনের হাত থেকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সনদ গ্রহণ করছেন মো. আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনের হাত থেকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সনদ গ্রহণ করছেন মো. আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত

মিসরে পা রাখার পর কেমন লেগেছিল?

তা ছিল এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবতাম, এই পথ দিয়ে ইবনে হাজার আসকালানি, জালালুদ্দিন সুয়ুতীর মতো মনীষীরা হেঁটেছেন। আরও মনে হতো, আমি যেন ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেছি। প্রতিটি দিন শুধু পড়াশোনা নয়, বরং আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের সুযোগও এনে দিয়েছে।

আল-আজহার থেকে স্নাতক শেষে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়াকে কেন আপনি বেছে নিয়েছেন?

আমি সব সময় বহুমাত্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম) ইসলামি জ্ঞান এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এখানে সমসাময়িক বাস্তবতার আলোকে ইসলামি চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে, যা আমার গবেষণার লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বর্তমানে আইআইইউএমে গবেষণার বিষয় এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন।

বর্তমানে বাংলাদেশের সমসাময়িক পারিবারিক সমাজে ন্যায়বিচারের প্রভাব—কোরআন ও হাদিসের আলোকে—বিশ্লেষণ করছি। এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে পারিবারিক ন্যায়বিচারের ধারণাকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন এবং সেটিকে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা। একই সঙ্গে পরিবারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা নিরূপণ করাও এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। গবেষণার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক। আইআইইউএম একটি গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী কাজ করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হয়। শিক্ষকেরা অত্যন্ত সহায়ক এবং গবেষণার প্রতিটি ধাপে দিকনির্দেশনা দেন। ফলে একটি মানসম্মত গবেষণার জন্য যে একাডেমিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা প্রয়োজন, তা এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিসর ও মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য দেখেছেন?

আমার অভিজ্ঞতায় তিনটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দৃষ্টিভঙ্গিগত ও কাঠামোগত পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে, বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় ধর্মীয় জ্ঞানের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়। তবে সাধারণ শিক্ষায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় তুলনামূলকভাবে সীমিত। পাশাপাশি গবেষণামুখী শিক্ষার সুযোগ এখনো অনুন্নত পর্যায়ে রয়েছে। মিসরে, বিশেষ করে আল-আজহারে, ঐতিহ্যবাহী ইসলামি জ্ঞানচর্চার গভীরতা লক্ষণীয়। কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও আরবি ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আধুনিক গবেষণার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা; বিশেষ করে আইআইইউএম ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষার একটি সফল সমন্বয়। এখানে গবেষণা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও বাস্তবমুখী প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে বাংলাদেশ আমাকে ভিত্তি দিয়েছে, মিসর দিয়েছে জ্ঞানের গভীরতা, আর মালয়েশিয়া দিয়েছে সেই জ্ঞানকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করার সক্ষমতা।

মো. আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত
মো. আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিসর ও মালয়েশিয়ায় মাসিক খরচ কেমন?

উত্তর: মিসরে, বিশেষ করে আল-আজহারে, সাধারণত টিউশন ফি দিতে হয় না। ফলে খরচ মূলত থাকা ও খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। একজন শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। এখানে থাকা ও খাওয়া মিলিয়ে মাসিক প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। টিউশন ফি বিষয় ও প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হয়।

প্রশ্ন: খরচ কমাতে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরিকল্পনা করতে পারেন?

উত্তর: খরচ পুরোপুরি কমানো সম্ভব না হলেও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রথমত, ভালো একাডেমিক ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বৃত্তি ও ফান্ডিং পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। দ্বিতীয়ত, গবেষণা, সেমিনার ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা একজন শিক্ষার্থীকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে। তৃতীয়ত, আল-আজহারে ভালো ফল করলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর আইআইইউএমে বিভিন্ন ফান্ড থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। সার্বিকভাবে, একাডেমিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম—এই তিনটি বিষয়ই খরচ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন: পড়াশোনার পাশাপাশি মিসর ও মালয়েশিয়ায় খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ কেমন?

উত্তর: মিসরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিক খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ সীমিত। অনেকে ব্যক্তিগত টিউশনির মাধ্যমে কিছু আয় করেন, তবে তা নিয়মিত নয়। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আইআইইউএমের মতো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসভিত্তিক কাজ বা গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে উভয় ক্ষেত্রে পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: পড়াশোনা শেষে মিসর ও মালয়েশিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কেমন?

উত্তর: মিসর ও মালয়েশিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগের বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। আমার অভিজ্ঞতায়, মিসরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি পেশাগত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্রশাসনিক কাঠামো, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয় চাকরির বাজারের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে যান। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি উন্মুক্ত। ভালো একাডেমিক ফলাফল, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে এখানে একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রশ্ন: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির বাজার কতটা প্রতিযোগিতামূলক?

উত্তর: মালয়েশিয়ার চাকরির বাজার যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক। তবে একই সঙ্গে সম্ভাবনাময়ও। এখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় পর্যায়ের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তাই শুধু একাডেমিক ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজিতে পারদর্শিতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে শিক্ষার্থীরা একটি বহুজাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেন, যা চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ইন্টার্নশিপ, নেটওয়ার্কিং এবং এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম এখানে বড় ভূমিকা রাখে। যাঁরা এসব বিষয়ে সক্রিয় থাকেন, তাঁদের জন্য সুযোগও বেশি তৈরি হয়।

প্রশ্ন: মিসর ও মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ কেমন?

উত্তর: বাস্তবতা হলো, এই দুই দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। সরাসরি নাগরিকত্ব অর্জনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে পড়াশোনা বা চাকরির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসায় বসবাস করা যায়। অর্থাৎ, এই দেশগুলো মূলত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের জন্য উপযোগী, স্থায়ী বসবাসের জন্য নয়।

প্রশ্ন: আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও গবেষণা পরিকল্পনা কী?

উত্তর: আমার লক্ষ্য একাডেমিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলা, বিশেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়া। পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ইসলামি জ্ঞান ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি এমন গবেষণায় মনোনিবেশ করতে চাই, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং একাডেমিক ক্ষেত্রেও অর্থবহ অবদান রাখে।

প্রশ্ন: মিসর ও মালয়েশিয়ায় পড়তে আগ্রহীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর: প্রথমেই একজন শিক্ষার্থীকে একাডেমিকভাবে নিজেকে শক্তভাবে প্রস্তুত করতে হবে। যাঁরা আরবি ও ইসলামি শিক্ষায় আগ্রহী, তাঁদের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় একটি অত্যন্ত উপযোগী প্রতিষ্ঠান, যেখানে মৌলিক ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। এরপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য মালয়েশিয়ার মতো দেশে যাওয়া একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এখানে আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধাপে ধাপে এগোনো। আগে ভিত্তি শক্ত করতে হবে, তারপর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রসর হতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত