Ajker Patrika

বিসিএসে ভালো করার পাঁচ পরামর্শ

চাকরি ডেস্ক 
বিসিএসে ভালো করার পাঁচ পরামর্শ

দেশের লাখো তরুণের স্বপ্ন বিসিএস। তবে এই স্বপ্নের পথ মোটেও সহজ নয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভাসহ দীর্ঘ ও কঠিন এক প্রতিযোগিতামূলক যাত্রা পেরিয়ে তবেই আসে চূড়ান্ত সফলতা। এ পথে অনেকে মাঝপথে থেমে যান, কেউবা ভুল প্রস্তুতি বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পিছিয়ে পড়েন। তাই ক্যারিয়ার হিসেবে বিসিএসকে বেছে নেওয়ার আগে প্রয়োজন বাস্তবতা জানা এবং নিজেকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করা। বিসিএসে ভালো করার পাঁচ পরামর্শ দিয়েছেন ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে (বাংলা) চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত সাদিকুর রহমান রাহাত।

তীব্র আকাঙ্ক্ষা

কোনো লক্ষ্য অর্জনের প্রথম শর্ত হলো, সেটি পাওয়ার প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা থাকা। সফলতা অনেকটাই নির্ভর করে, আপনি কোনো কিছু কতটা আন্তরিকভাবে চান, তার ওপর। তাই বিসিএসের প্রস্তুতি শুরুর আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন—আপনি কি সত্যিই নিজেকে একজন বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেখতে চান?

যদি আপনার ভেতরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা থাকে, তবে সেটিকে দৃঢ়সংকল্পে পরিণত করতে হবে। কারণ, এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় টিকে থাকতে হলে শুধু ইচ্ছা নয়, প্রয়োজন তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের মানসিক প্রস্তুতি। আর যদি আপনার স্বপ্ন অন্য কোনো পেশা ঘিরে হয়, সেটিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। তবে বিসিএসকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিলে শুরুতে সেই স্বপ্নের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করতে হবে।

সঠিক দিকনির্দেশনা

বিসিএসের প্রস্তুতি শুরুর আগে প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা। এটি হতে পারে কোনো ভালো কোচিং, পরিচিত কোনো বিসিএস ক্যাডার কিংবা নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে। সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া অনেক সময় প্রস্তুতির পথ দীর্ঘ ও বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে। আপনি নিজেও পরিকল্পনা করতে পারেন, তবে সেটি সব সময় কার্যকর না-ও হতে পারে। তাই যাঁরা এই পথ পেরিয়ে সফল হয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন 12th Fail সিনেমায় দেখা যায়, বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর মনোজ সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য একজন আইপিএস কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয়; যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পরিশ্রম

পরিশ্রম ছাড়া পৃথিবীতে কোনো বড় অর্জন সম্ভব নয়। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতার সময়ে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সফল হওয়ার গল্প খুবই বিরল। তাই এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষার সময় পরিশ্রমের মাত্রা আরও বেড়ে যায়—ঘণ্টার পর ঘণ্টা লিখতে গিয়ে হাত অবশ হয়ে আসে, টানা পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতটা পরিশ্রম করার মানসিকতা না থাকলে বিসিএসের মতো দীর্ঘ পথ বেছে নেওয়া কঠিন।

ধৈর্য

বিসিএস একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে অনেক সময় চার-পাঁচ বছরও লেগে যায়। এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথ পাড়ি দিতে হলে ধৈর্য অপরিহার্য। প্রস্তুতির সময় অনেক সম্পর্ক দূরে সরে যেতে পারে, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যেতে পারে। তখন আপনার নীরব সঙ্গী হয়ে থাকে পড়ার টেবিল, বই আর স্বপ্ন। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষায় হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু যাঁরা ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকতে পারেন, সফলতা সাধারণত তাঁদের কাছেই ধরা দেয়।

সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা ও আত্মবিশ্বাস

সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা মানুষকে নিজের প্রতিও আস্থা রাখতে শেখায়; যাকে আমরা আত্মবিশ্বাস বলি। জীবনের যেকোনো বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে ব্যর্থতা আসতেই পারে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস থাকলে মানুষ সহজে হাল ছাড়ে না। এই বিশ্বাস আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, কর্মে শক্তি জোগায় এবং কঠিন সময়েও এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। সব প্রচেষ্টার পরও কখনো ফল প্রত্যাশামতো না-ও হতে পারে, সেই সময়ও ধৈর্য ধরে নতুন করে শুরু করার শক্তি দেয় এই বিশ্বাস।

এর পাশাপাশি বিনয়, ব্যক্তিত্ব, মা-বাবার দোয়া এবং মানুষের শুভকামনাও একজন বিসিএসপ্রত্যাশীর পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন সচিব মিরানা মাহরুখ

লিটনের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন রিজওয়ান, আম্পায়ার কী করলেন

শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল, সরকারি ১০ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত