Ajker Patrika

জাপানের মেক্সট বৃত্তি, নেই আবেদন ফি

শিক্ষা ডেস্ক
আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ০৮: ২২
জাপানের মেক্সট বৃত্তি, নেই আবেদন ফি
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের অন্যতম গন্তব্য জাপান। প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য দেশটিতে যান। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং দেশটির সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি দিয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হলো মেক্সট স্কলারশিপ।

এই বৃত্তিতে আবেদন বা ভর্তি হতে কোনো ফি লাগে না। পাশাপাশি রয়েছে মাসিক ভাতা, যাতায়াতের বিমানভাড়া এবং অন্য সুযোগ-সুবিধাও। আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর ছাড়াও আবেদন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি হতে হবে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহীরা গবেষণা (মাস্টার্স ও পিএইচডি), স্নাতক, কলেজ অব টেকনোলজি এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিং প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণা পর্যায়ে (মাস্টার্স ও পিএইচডি) ৪০ জন, স্নাতক পর্যায়ে ২৫ জন, কলেজ অব টেকনোলজির জন ১৫ জন এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজের জন্য ৫ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হবে।

আবেদনের যোগ্যতা

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
  • মাস্টার্স ও পিএইচডির আবেদনকারীদের জন্ম হতে হবে ২ এপ্রিল ১৯৯২-এর পরে।
  • আন্ডারগ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের জন্ম হতে হবে ২ এপ্রিল ২০০২-এর পরে এবং উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • ট্রেনিং কলেজ প্রোগ্রামের আবেদনকারীদেরও ২ এপ্রিল ২০০২ -এর পরে জন্ম হতে হবে এবং অন্তত একাদশ শ্রেণি পাস হতে হবে।

যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ

গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, আর্থ সায়েন্স, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম অ্যান্ড কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইকোনমিকস, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও কম্পিউটিং সায়েন্স এবং লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

সুযোগ-সুবিধা

  • বৃত্তি পাওয়া প্রার্থীদের কোনো টিউশন ফি বা ভর্তি ফি দেওয়া লাগবে না।
  • আবেদন করতেও কোনো ফি লাগবে না।
  • আসা-যাওয়ার বিমান খরচ দেওয়া হবে।
  • শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর দেখাতে হবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা ও পরীক্ষা হয়েছে, সেটির প্রমাণ লাগবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • মাস্টার্স ও ডক্টরাল (প্রথম ধাপ): স্নাতক পাস হতে হবে।
  • ডক্টরাল (দ্বিতীয় ধাপ): স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে। তবে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত দুই বছরের গবেষণা বা বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করা যাবে।
  • মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি, ভেটেরিনারি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিষয়ে ডক্টরাল: স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা সংশ্লিষ্ট গবেষণা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও স্পেশালাইজড ট্রেনিং: এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে। যাঁরা মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে ফল পাবেন, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।
  • কলেজ অব টেকনোলজি: অন্তত একাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে।

একজন আবেদনকারী একাধিক প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন না। কেবল একটি প্রোগ্রাম বেছে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ, মার্কশিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

আবেদনপ্রক্রিয়া

আবেদন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগ্রহীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা পাওয়াযাবে Ministry of Education-এর ওয়েবসাইটে। আবেদনের হার্ড কপি, সত্যায়িত সনদ, মার্কশিট, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১২ মে ২০২৬ বিকেল ৪টার মধ্যে সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনের শেষ সময়: ১২ মে ২০২৬, বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত