Ajker Patrika

বাকৃবির সেরা তিন দর্শনীয় স্থান

মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন
বাকৃবির সেরা তিন দর্শনীয় স্থান

দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষির আধুনিকায়নের অন্যতম কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট ব্রহ্মপুত্রতীরে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দক্ষ কৃষিবিদ তৈরির ক্ষেত্রই নয়, বরং উন্নত জাতের বীজ, মাছ ও প্রাণী উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্র। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষি বিবর্তনের নীরব সাক্ষী হিসেবেও এখানে রয়েছে বেশ কিছু অনন্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন, জার্মপ্লাজম সেন্টার এবং কৃষি জাদুঘর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও দর্শনার্থীদের কাছে সমাদৃত।

বোটানিক্যাল গার্ডেন

বাকৃবির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন নিঃসন্দেহে অন্যতম আকর্ষণ। সবুজে ঘেরা এই উদ্যান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দেশি-বিদেশি বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সংগ্রহ এবং পাখির কলতানে দর্শনার্থীদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বাগান কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের (বিজিসিআই) স্বীকৃত দেশের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেন। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির ৬ হাজার ৭০০টির বেশি গাছ। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পুরো বাগানকে ৩০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াটার গার্ডেন, রক গার্ডেন, ক্যাকটাস হাউস, অর্কিড হাউসসহ নানা বিশেষায়িত বিভাগ। নগ্নবীজী উদ্ভিদ জোনে থুজা, পাইন, জুনিপেরাসসহ বিভিন্ন প্রজাতি সংরক্ষিত রয়েছে। পাম জোনে দেখা মেলে তালিপাম, মাতালপামসহ অন্যান্য পামজাতীয় উদ্ভিদের। চা ও কফি জোনে রয়েছে বিভিন্ন জাতের চা গাছ। সুন্দরবন জোনে সংরক্ষিত রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, পশুর ও বাইনগাছের মতো উপকূলীয় প্রজাতি। এ ছাড়া ঔষধি উদ্ভিদ, ফলদ গাছ, বাঁশবাগান এবং বিদেশি বিরল উদ্ভিদের জন্য রয়েছে আলাদা জোন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে নাগলিঙ্গমসহ বেশ কিছু দুর্লভ বিদেশি বৃক্ষ। ক্যাকটাস জোনে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৬০ প্রজাতির ক্যাকটাস। দর্শনার্থীদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য নদীর ধারে রয়েছে বসার মনোরম ব্যবস্থা।

bau

জার্মপ্লাজম সেন্টার

বাকৃবির জার্মপ্লাজম সেন্টার শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সুপরিচিত। ইউএসডিএএআরএসের গবেষণা অনুযায়ী এটি এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফলদ বৃক্ষ সংগ্রহশালা। ১৯৯১ সালে মাত্র এক একর জায়গায় ‘ফ্রুট ট্রি স্টাডিজ’ নামে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি প্রায় ৩২ একরজুড়ে বিস্তৃত। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ২০০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশি ফলদ গাছ। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি বিরল প্রজাতির পাশাপাশি রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উন্নত জাত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে ২২০ জাতের আম, ৫৭ জাতের পেয়ারা, ২৩ জাতের লিচু, ৪৭ জাতের লেবু এবং শতাধিক জাতের কাঁঠাল। পাশাপাশি রয়েছে অপ্রধান ও বিলুপ্তপ্রায় ফল, ঔষধি ফল এবং বিদেশি ফলের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। এখান থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘বাউ’ সিরিজের নানা উন্নত জাত—বাউ আম, বাউ পেয়ারা, বাউ কুল, বাউ লেবু, বাউ লিচুসহ বহু ফলজাত উদ্ভাবন, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনে অবদানের জন্য কেন্দ্রটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছে।

agriculture

কৃষি জাদুঘর

কৃষির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে গড়ে ওঠা বাকৃবির কৃষি জাদুঘর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র। ২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ২০০৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৫ একর আয়তনের অষ্টভুজাকৃতির এই জাদুঘরে রয়েছে আটটি কক্ষ, যেগুলোর মধ্যে ছয়টি প্রদর্শনী কক্ষ। জাদুঘরের প্রবেশমুখে রয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম ও খনার বচন। প্রথম ও দ্বিতীয় কক্ষে সংরক্ষিত রয়েছে মাটির নমুনা, ধান ও মাছের জাত, কৃষিজ রোগের চিত্র, গবাদিপশুর কৃমি, বিভিন্ন প্রাণীর কঙ্কাল এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট নানা উপকরণ। তৃতীয় কক্ষে দেখা যায় ঢেঁকি, কুলা, হুঁকা, গরুর গাড়ি, হারিকেনসহ গ্রামীণ জীবনের নানান উপকরণ ও বাদ্যযন্ত্র। চতুর্থ কক্ষে রয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সমন্বিত প্রদর্শনী। পঞ্চম কক্ষে কৃষকের বসতবাড়ির পূর্ণাঙ্গ মডেল এবং কৃষিজীবনের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। ষষ্ঠ ও শেষ কক্ষে রয়েছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, পাওয়ার টিলার, ধানমাড়াই যন্ত্রসহ নকশিকাঁথা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কুষ্টিয়ায় ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা-আগুন, আস্তানাপ্রধান নিহত

খলিলুর রহমান-জয়শঙ্কর বৈঠক: শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইসলামাবাদ আলোচনা, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শাহবাজের পৃথক বৈঠক

অধ্যাদেশ ও সংস্কার: অবস্থান বদল সরকারের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত