Ajker Patrika

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তিতে নাখোশ ট্রাম্প, বললেন—‘খুব বিপজ্জনক’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তিতে নাখোশ ট্রাম্প, বললেন—‘খুব বিপজ্জনক’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্যের জন্য চীনের সঙ্গে লেনদেন ‘খুবই বিপজ্জনক।’ ট্রাম্প এই মন্তব্য এমন এক সময়ে করলেন, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে বেইজিং সফরে আছেন। মূলত চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের বৈঠকের পর এসব চুক্তি ঘোষণা করা হয়। এই বৈঠক ছিল স্টারমারের তিন দিনের চীন সফরের অংশ। এই বৈঠকে অন্তত ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত এক তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্য চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোকে তিনি কীভাবে দেখছেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘ওটা তাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, কিয়ার স্টারমারের চীন সফর এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াশিংটন আগে থেকেই অবগত ছিল। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট আরও উল্লেখ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজেরও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প আর কোনো মন্তব্য না করে আলোচনার দিক ঘুরিয়ে কানাডার প্রসঙ্গ তোলেন এবং সেখানেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘কানাডার জন্য এটা আরও বেশি বিপজ্জনক, আমার মনে হয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘কানাডা ভালো অবস্থায় নেই। তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছে, আর চীনকে সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হুমকি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক অর্থনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়ন করে, তাহলে তিনি কানাডার ওপর শুল্ক আরোপ করবেন। সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফরে গিয়ে এসব চুক্তি করেন। এই মন্তব্যগুলো আসে এমন এক সময়ে এল, যখন কিয়ার স্টারমার বলেছেন—চীন প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক এখন ‘ভালো ও শক্ত অবস্থানে’ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়।

আজ শুক্রবার কিয়ার বলেন, সির সঙ্গে ‘খুব ভালো বৈঠক’ হয়েছে এবং এতে ‘আমরা যে মাত্রার সম্পৃক্ততা চেয়েছিলাম, ঠিক সেটাই পাওয়া গেছে।’ তিনি বেইজিংয়ে ব্যাংক অব চায়নায় অনুষ্ঠিত ইউকে–চায়না বিজনেস ফোরামের এক সভায় বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছি এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে। কারণ যুক্তরাজ্যের দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।’

এ পর্যন্ত কিয়ার স্টারমারের চীন সফর থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসামুক্ত ভ্রমণ চুক্তি, হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানো এবং চীনে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা। এ ছাড়া সংগঠিত অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসনের মতো বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

চীনে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান ক্রিস টরেন্স কিয়ার স্টারমারের বেইজিং সফরকে ‘সফল’ বলে মন্তব্য করেছেন। টরেন্স বিবিসিকে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের জন্য চীনের দিকে তাকানো যৌক্তিক। চীন তাদের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি।’ তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা অনেক নেতা সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন বা শিগগিরই করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও, যিনি এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। টরেন্স বিবিসিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে বা শুল্ক চাপাচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজেই চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারে। বাস্তবে আমরা আশা করছি, এ বছরই এমন কিছু হবে।’

স্যার কিয়ার স্টারমারের পরবর্তী গন্তব্য ছিল সাংহাই। চীন সফরের শেষ ধাপে তিনি সেখান থেকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে যাবেন। সেখানে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে একটি কার্যকরী নৈশভোজে অংশ নেবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত