
কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর কন্যা আলিনা ফার্নান্দেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবা সরকার নিয়ে ভুল হিসাব করছে এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ দেশটিকে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ সময় তিনি জানান, কিউবান রেজিম বা শাসনব্যবস্থার তাঁর কোনো আলাদা অনুভূতি নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিনা ফার্নান্দেজ জানান, তাঁর প্রজন্মের শৈশব কেটেছে টেলিভিশনে ফিদেল কাস্ত্রোর দীর্ঘ ভাষণ দেখতে দেখতে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রজন্ম টিভির সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করত, যেন তিনি (কাস্ত্রো) দ্রুত শেষ করেন, যাতে আমরা আবার কার্টুন দেখতে পারি। এভাবেই আমার বড় হওয়া।’
তবে তিনি আরও জানান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। কারণ, তিনি পরে জানতে পারেন কাস্ত্রোই ছিলেন তাঁর বাবা এবং তিনি মাঝে মাঝে তাদের পারিবারিক জীবনে উপস্থিত হতেন। আলিনা বলেন, ‘তিনি ছিলেন নিয়মিত আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা মানুষ।’
আলিনা ফার্নান্দেজ বর্তমানে ফ্লোরিডার মায়ামিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিজমবিরোধী অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কিউবা নীতি এবং সম্ভাব্য সামরিক চাপকে তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এই প্রথমবার নয় যে—কিউবানদের বলা হচ্ছে, এখনই আক্রমণ আসছে। আমরা গত ৬৭ বছর ধরে আক্রমণের মধ্যেই আছি, বা আক্রমণের অবস্থার মধ্যেই আছি। আমি নিশ্চিত তারা প্রস্তুত। তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, আমি জানি না।’
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা কিউবায় ‘রক্তগঙ্গা’ বইয়ে দেবে। ফার্নান্দেজ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘আমরা জানি এ ধরনের শাসনব্যবস্থা বেসামরিক মানুষকে সামনের সারিতে ঠেলে দেয়। যখন সামরিক বা রাজনৈতিক সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা খুবই উদ্বেগজনক। আমার অনুভূতি হলো—যে আনন্দ বা সমাধানের আশা আছে, তার পরিণতি হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
নিজের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে ফার্নান্দেজ জানান, তিনি ১০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারেন তাঁর প্রকৃত পিতৃপরিচয়। তিনি বলেন, ‘তিনি ছিলেন নিয়মিত আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর আশপাশের সবাই আগেই বিষয়টি জানত। ফলে, এই বিষয়টি তাঁর মধ্যে এক ধরণের বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি তৈরি করে।
আলিনা বলেন, ‘আমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে বলেছিলাম আমার বাবার ব্যাপারে। জবাবে সে বলল, এই বিষয়টি সে আগে থেকেই জানত। এরপর সেই বিষয়টি আমার জীবনে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি বয়ে এনেছিল। আমি অনুভব করেছিলাম, যেন আমাকে মিথ্যা বলা হয়েছে।’
তিনি তাঁর মায়ের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। ফার্নান্দেজ জানান, তাঁর মা ১৯৫০-এর দশকের বিপ্লবের সময় কাস্ত্রোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভালোবেসেছেন। ২০১৫ সালে তাঁর মা মারা যান, ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুর এক বছর আগে। তিনি বলেন, ‘তিনি (আলিনার মা) তাঁর (কাস্ত্রোর) সম্পর্কে কথা বলেই জীবন কাটিয়েছেন। তিনি সারাজীবনই প্রেমে মজেছিলেন, যা আমার জন্য বোঝা খুব কঠিন।’
ফার্নান্দেজ বলেন, মায়ামি তাকে এক ধরনের স্বস্তি দিয়েছে, যদিও তিনি নিজেকে বিশেষ কেউ মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে আর সবার মতোই একজন কিউবান মনে করি। একজন নারী, একজন নির্বাসিত, আবার এক ধরনের ভুক্তভোগীও।’
তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে কিউবা সরকারের প্রতি পুরোপুরি মোহভঙ্গ হয় তাঁর এবং ১৯৯৩ সালে দেশ ছাড়েন। কারণ, তিনি মনে করেন তাঁর কন্যাকে রাষ্ট্রের শত্রুর সন্তান হিসেবে বড় করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আলিনা বলেন, ‘আমি সবসময় আমার সত্য অনুযায়ী জীবনযাপন করেছি। আমি যখন বুঝতে পারি কিংবা কেউ আমাকে দেখিয়ে দেয় যে, আমি আমার মেয়ের ওপর সেই একই বিষয় চাপিয়ে দিচ্ছি, যা আমার ওপর করা হয়েছিল। এই বোধের কারণেই আমি কিউবা ছাড়ি।’
আলিনার মতে, শৈশব থেকেই তিনি বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য অনুভব করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘শৈশবে কিছু বিষয় আপনি বুঝতে পারেন, কিছু আবার পারেন না। কিন্তু খুব ছোট বয়স থেকেই আমি দেখতে পাই, সেই জৌলুশ, সেই ভাষণ—বাস্তবতার সঙ্গে মিলছিল না।’
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কিউবা নীতিতে কড়া অবস্থানের পেছনে তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের তুলনায় সরকারের ভেতরে মার্কো রুবিওর উপস্থিতির কারণেই বেশি।’
চাচা রাউল কাস্ত্রোর ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে রাউল কাস্ত্রো তাঁর ভাইয়ের চেয়ে একেবারেই আলাদা ছিলেন। তিনি ছিলেন পারিবারিক মানুষ।’
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কিউবা সরকারকে ভেঙে ফেলতে পারবে—এমন ধারণাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য হাল ছেড়ে দেওয়া খুব কঠিন। দেশগুলোর জন্য স্বীকার করা আরও কঠিন যে তারা যুদ্ধ হেরে গেছে... আমি মনে করি, তারা অনেক আগেই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে হেরে গেছে।’

ইরান এবার বিটকয়েনভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছে। সম্প্রতি তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ ও ১৩ জুন বুসান শহরে অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের বহুল কাঙ্ক্ষিত কনসার্ট। এই কনসার্ট ঘিরে শহরটিতে বিপুলসংখ্যক বিটিএসের ভক্ত ও সংগীতপ্রেমী জড়ো হবেন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাই কনসার্টের নিকটবর্তী দিনগুলোতে বুসানের হোটেল ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
একটি হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন তেহরানের কড়া সমালোচক সুইডেনপ্রবাসী কর্মী আরভিন খোশনুদ। ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি। সুইডিশ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাস, ইরানের নির্দেশে এক কিশোর খোশনুদকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য গোলাবারুদ সংরক্ষণ করতে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হুং কাও স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সিনেট শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের এ তথ্য জানান।
৯ ঘণ্টা আগে