
যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে। এমনটি জানিয়েছে হামাসের দুটি সূত্র। গাজায় চলমান তথাকথিত যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে কায়রোতে হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সিনিয়র মার্কিন উপদেষ্টা আরিয়েহ লাইটস্টোনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, লাইটস্টোনের সঙ্গে ছিলেন গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বোর্ড অব পিসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএনএনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখ বলেন, ‘চলমান আলোচনা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না।’
গত সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া আল-হাইয়া লাইটস্টোনকে চুক্তির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে হামলা বন্ধ করা এবং আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা। তিনি স্পষ্ট করেন, পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য এগুলো অত্যাবশ্যক।
গত বছরের অক্টোবর মাসে হওয়া এই যুদ্ধবিরতির ফলে গাজায় দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসান ঘটে। তবে বিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিশেষ করে গাজার নিরাপত্তা বা প্রশাসনে হামাসের ভূমিকা কী হবে তা অস্পষ্ট। হামাস গাজার সেই অংশগুলোতে পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা ইসরায়েল দখল করেনি। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও অঞ্চলটিতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার লাইটস্টোন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের কয়েক দিন পরই এই সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। মার্কিন সূত্র ও এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্তগুলো পালনে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে ওই বৈঠক হয়েছিল। একটি সূত্র জানায়, হামাস যদি নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়, তবেই ইসরায়েল ওই শর্তগুলো বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।
হামাস, বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যকার এই আলোচনার লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো। যার মধ্যে রয়েছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং বিধ্বস্ত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আগেই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের শর্ত দেওয়ায় আলোচনা বারবার থমকে যাচ্ছে। হামাস ও গাজায় কর্মরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ইসরায়েল চুক্তির শর্ত মানছে না। ইসরায়েল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো হামাসের বিরুদ্ধেই চুক্তি লঙ্ঘনের দায় চাপাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, সশস্ত্র এই গোষ্ঠী বর্তমান প্রস্তাবটিকে ভারসাম্যহীন মনে করছে। তাদের মতে, এটি ‘পুরো প্রক্রিয়াকে কেবল একটি শর্তে—নিরস্ত্রীকরণ নামিয়ে এনেছে, যেখানে প্রথম ধাপের অন্যান্য বাধ্যবাধকতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।’ ওই সূত্র আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত নথিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। এতে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সবার আগে রাখা হয়েছে, আর ফিলিস্তিনিদের মানবিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকারগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে।’
হামাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ম্লাদেনভ মূলত ইসরায়েলের দাবিগুলোই তুলে ধরছেন এবং সতর্ক করেছেন যে হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে ইসরায়েল আবারও যুদ্ধে ফিরবে। তাদের দাবি, ‘এমনকি একপর্যায়ে ম্লাদেনভ প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন এই বলে যে হয় প্রস্তাব মেনে নিন, নয়তো যুদ্ধের মুখোমুখি হোন।’
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় রয়েছেন এবং তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এই মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া তদারকি করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’...
১ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় পবিত্র বাইবেলের শ্লোক পড়তে গিয়ে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি কাল্পনিক সংলাপ আওড়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ। গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রার্থনা সভায় তিনি বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল ২৫: ১৭’ শ্লোকটির কথা...
১ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার...
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে চীন। ওয়াশিংটন যখন তেহরানকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এ বিষয়টি সামনে এল। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী...
১ ঘণ্টা আগে