Ajker Patrika

ইরানের সরকার উৎখাতে বিশ্বকে সহায়তার আহ্বান রেজা পাহলভির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি দাবি করেছেন, দেশটিতে চলমান গণজাগরণ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবে রূপ নিয়েছে। আজ শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন হবেই—প্রশ্নটি এখন ‘হবে কি না’ তা নয়, বরং ‘কখন হবে’ তা নিয়ে। তিনি বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য বিশ্বশক্তির প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পর একটি সংবিধান সভা গঠন এবং গণভোটের মাধ্যমে নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়নের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন তিনি।

রেজা পাহলভি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের দমনে যেকোনো ধরনের অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে এবং গোপনে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

পাহলভি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার হিজবুল্লাহ বা হুতিদের মতো বিদেশি মিলিশিয়া বাহিনীকে ভাড়া করে এনেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পাহলভি ঘোষণা দেন, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইরান গঠিত হলে তারা অবিলম্বে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং আব্রাহাম চুক্তিকে আরও সম্প্রসারণ করবে।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন পর্যন্ত ইরানের ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৬৭৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। কোনো কোনো মানবাধিকার সংস্থা আশঙ্কা করছে, এই সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ৯০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৪টি শিশু ও ১৫৬ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ‘সাহায্য আসছে’ বলে বার্তা দিয়েছেন। তবে রেজা পাহলভি মনে করেন, ইরানের মানুষ নিজেরাই তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত, শুধু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দমন-পীড়ন থামানোর জন্য কার্যকর ‘সামরিক ও অর্থনৈতিক’ চাপ প্রয়োজন।

পাহলভি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি নিজেকে নেতা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চাই না। আমার লক্ষ্য হলো আমার দেশবাসীকে মুক্ত করতে সাহায্য করা। ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা কী হবে, তা ইরানি জনগণই নির্ধারণ করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত