Ajker Patrika

সুপার ফাইভ বাহিনী

সম্পাদকীয়
সুপার ফাইভ বাহিনী

সম্পাদকীয়র শিরোনাম দেখে যেকোনো পাঠক ভাবতে পারেন সমাজসেবায় জড়িত কোনো ‘সুপারহিরোদের’ দলের কথা বলা হচ্ছে। তবে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বাসিন্দারা খুব ভালো করেই জানেন এটি কোনো মহানায়কদের দল নয়, বরং চাঁদাবাজি করার জন্য গড়ে ওঠা একটি বাহিনী। স্থানীয়ভাবে ‘সুপার ফাইভ বাহিনী’ নামে পরিচিত এই দলটির আরও একটি নাম ‘ফাইভ স্টার গ্রুপ’। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এই বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। কেননা, অভিযুক্ত গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

১২ জানুয়ারি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন, সহসভাপতি ইদ্রিছ আলী মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুজ্জামান তরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা জিয়া উদ্দিন এবং চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলকাছ মিয়া সুপার ফাইভ বাহিনীর সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে উপজেলার লেপসিয়া বাজার থেকে কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও জলমহাল দখল করে লুটপাটের অভিযোগ এনে ৭ জানুয়ারি তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের মধ্যে আবার রয়েছেন বিএনপিরই দুই সক্রিয় সদস্য—মো. আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর আলম খান।

অভিযুক্ত গ্রুপটি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জলমহাল, ফিশারি, বাজার ইজারা, টেন্ডার (পিআইসি), এমনকি প্ৰশাসনিক দপ্তরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে চলছে। তারা লেপসিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘিরেও চাঁদাবাজি করছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র কি তারেক রহমান হাতে পেয়েছেন? পেলে তিনি কী ব্যবস্থা নেবেন, সেটাও দেখার বিষয়।

মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন এই চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণকাণ্ডের ব্যাপারে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তিও মাথা পেতে নেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত তো এখনো শুরুই হলো না। জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক অধ্যাপক আনোয়ারুল হকও এই অভিযোগের ব্যাপারে কিছু জানেন না। কেন্দ্র থেকে তাঁকে কিছু জানালে তিনি নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

অভিযোগকারীরা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠি কবে নাগাদ তারেক রহমানের হাতে পৌঁছাবে, তিনি তা খুলে পড়ার সুযোগ পাবেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে অভিযুক্তরা নিজেদের আখের গুছিয়ে ফেলার বেশ সময় পেয়ে যেতে পারেন, যদি তাঁরা সত্যিই অপরাধী হয়ে থাকেন।

নিজেদের ‘ক্লিন ইমেজ’ তৈরি না হলে যেকোনো রাজনৈতিক দলকেই ভোটের মাঠে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। চাঁদাবাজি সেই কাজটা আরও সহজ করে দেয়। নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়, ঠিক তখনো বিএনপির দলীয় ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ চাঁদাবাজি আর নিয়ন্ত্রণের ব্যবসা করে যাবে—এটা নিশ্চয়ই দল প্রশ্রয় দেবে না। বিএনপি ‘সুপার’ একটি সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত