Ajker Patrika

স্বল্প বাজেট, দুর্বল বাস্তবায়নের চাপে স্বাস্থ্যব্যবস্থা—কর্মশালায় উদ্বেগ

  • দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন ব্যয় বাংলাদেশে
  • নিজ পকেটের খরচেই ভরসা স্বাস্থ্যসেবার
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
স্বল্প বাজেট, দুর্বল বাস্তবায়নের চাপে স্বাস্থ্যব্যবস্থা—কর্মশালায় উদ্বেগ
রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের স্বল্প বরাদ্দ এবং দুর্বল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ক্রমেই চাপে ফেলছে। বাজেটের অঙ্কে এই সংকট যেমন স্পষ্ট, তেমনি স্পষ্ট মানুষের দৈনন্দিন চিকিৎসা অভিজ্ঞতায়ও। জাতীয় আয় বাড়লেও স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বাড়েনি—এই বাস্তবতাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের।

আজ রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ আলোচনায় এই চিত্র উঠে আসে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে তা অল্প বেড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ালেও বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সুপারিশ করে, সেখানে বাংলাদেশ বছরের পর বছর বাজেটের ৫ শতাংশ এবং জিডিপির ১ শতাংশের নিচেই রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই ব্যয় সর্বনিম্ন। ২০২২ সালের হিসাবে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্য খাতে গড় ব্যয় ছিল ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

কর্মশালায় প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল বলেন, সরকারি ব্যয়ের এই ঘাটতির সরাসরি চাপ গিয়ে পড়ছে মানুষের ওপর। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস ২০২০ অনুযায়ী, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। এতে অসুস্থতা অনেক সময় আর্থিক সংকটের রূপ নিচ্ছে।

সামিহা বিনতে কামাল আরও জানান, বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বড় দুর্বলতা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৯টি প্রকল্পের সংশোধিত বরাদ্দের ৭৯ শতাংশ অব্যয়িত থেকে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এই অবস্থার মধ্যেই দেশে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের চাপ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হৃদ্‌রোগে মারা গেছে ২ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ, যার বড় অংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. গীতা রানী দেবী, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

বক্তারা বলেন, টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই নীরব সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত