Ajker Patrika

ডিবির তথ্যদাতা জালাল হত্যা: ২৭ বছর পর দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১৭: ০৮
ডিবির তথ্যদাতা জালাল হত্যা: ২৭ বছর পর দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের যাবজ্জীবন
জালাল আহমেদ শফি ওরফে জালাল। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে সোর্স (তথ্যদাতা) জালাল আহমেদ শফি ওরফে জালাল হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ এই রায় ঘোষণা করেন। তবে আজ রোববার রায়ের বিষয়টি প্রকাশ হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন—পুলিশের হাবিলদার মো. বিল্লাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুর রউফ ও ডিবির ক্যানটিনের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

এই মামলায় অন্য আসামি পুলিশের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সায়েদুর রহমান রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

২৭ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ের ছাদে পানির ট্যাংকের মধ্যে ডিবি পুলিশের সোর্স জালালের লাশ পাওয়া যায়। ওই সময় এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। নানা চাপে তৎকালীন ডিবি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বিচার ঝুলে যায়। অবশেষে রায় ঘোষণা করা হলো। ঘটনার মূল হোতা ও মামলার প্রধান আসামি ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. জিয়াউল হাসান মামলার বিচার চলাকালে মারা গেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ছাদের পানির ট্যাংক থেকে জালালের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় লাশ উদ্ধারের পরদিন রমনা থানার অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন ডিবির তৎকালীন এসআই এসএম আলী আজম সিদ্দিকী। লাশ শনাক্ত হওয়ার পর ওই বছর ৪ এপ্রিল নিহতের ছেলে আব্বাস উদ্দিন আরেকটি মামলা করেন।

আব্বাস উদ্দিনের মামলার এজাহার অনুযায়ী, জালাল ছিলেন মাইক্রোবাস চালক। প্রথমে নিজের মাইক্রোবাস চালাতেন। পরে সেটি বিক্রি করে ভাড়ায় চালাতেন। ডিবি পুলিশ কোনও গাড়ি রিকুইজিশন করলে চালানোর জন্য তাঁকে ডাকা হতো। এই কারণে ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আসামি জিয়াউল হাসান ও এসআই আরজু প্রায়শ জালালকে ডেকে নিতেন। ১৯৯৯ সালের ২০ মার্চ মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়ার বাসা থেকে গাড়ির লাইসেন্স ও চেক বই নিয়ে রাত ৩টায় ডিবি অফিসের উদ্দেশে বের হন জালাল। কয়েক দিন পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারে ধারণা হয়, তিনি ঢাকার বাইরে গেছেন।

ওই বছর ৩১ মার্চ কয়েকজন লোক বাসায় এসে জালালের ছবি দেখিয়ে পরিচয় জানতে চায়। এরপর পরিবারের লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জালালের লাশ শনাক্ত করে।

১৯৯৯ সালের ১৩ মার্চ জালাল বিমানবন্দর এলাকায় একটি সোনা চোরাচালানকারী চক্রের তথ্য অন্য একটি গোয়েন্দা দলকে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন জিয়াউল। ১৯ মার্চ রাতে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় জালালকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। আর লাশ লুকানো হয় ডিবি কার্যালয়ের ছাদে পানির ট্যাংকের ভেতরে।

ওই ঘটনা সেসময় ব্যাপক আলোড়ন তোলে। হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ১৯৯৯ সালের ৯ আগস্ট সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুন্সি আতিকুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে হত্যার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ, হেরোইন ও মাদক চোরাচালানের তথ্য পাওয়ার জন্য জালালকে ‘সোর্স’ হিসেবে ব্যবহার করতেন জিয়াউল আহসান। এ মামলার আসামিরা জালালের তথ্যের ভিত্তিতে চোরাকারবারিদের আটক করে চোরাচালানের পণ্য হস্তগত করতেন। কিন্তু, জালালকে বখরা থেকে বঞ্চিত করা হতো।

২০০০ সালের ১০ জুলাই সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত ২৬ জনের সাক্ষ্য নিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

টিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ইউনূস সরকার, এরপরই দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব

বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার আশায় সন্তানকে বড় করিনি: অঞ্জন দত্ত

ইরান যুদ্ধে কারা হারল, জিত কাদের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত