Ajker Patrika

শিশুকে অপহরণের পর হত্যা: দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
শিশুকে অপহরণের পর হত্যা: দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড
শিশু মিলন হত্যকাণ্ডে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুলে ১১ বছরের শিশু শফিকুল ইসলাম ওরফে মিলনকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছর সশ্রম কারাভোগ করতে হবে দুই আসামিকে।

১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুলকে। সাইফুলকেও কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

জরিমানার টাকা যদি পরিশোধ করা না হলে তাঁদের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে নিহত শিশুর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন আব্দুল মোত্তালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেল।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় মাসুদ রানা ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ কাফরুলের বাসা থেকে খেলার উদ্দেশ্যে শিশু শফিকুল ইসলাম মিলন বের হয়। এরপর বাসায় ফিরেনি। ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনায় মিলনের বাবা শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদ ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় অপহরণের মামলা করেন। কললিস্টের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া নামের স্থান থেকে মিলনের হাড়, দাঁত, রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলায় হত্যার অভিযোগ সংযুক্ত করা হয়।

কাফরুল থানার এসআই তহিদুল ইসলাম ২০০৯ সালের ৩ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সিআইডির ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী মামলাটি তদন্ত করে আল আমিন, মাসুদ রানা, আব্দুল মোত্তালিব, মিসেস রুবিনা খাতুন, সাইফুল ইসলাম, আমিরু ইসলামদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৩ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

রুবিনা খাতুনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত