Ajker Patrika

উচ্ছেদ অভিযান: গুলিস্তানে ফুটপাত ঘিরে ‘হকার-পুলিশ’ খেলা

  • সুযোগ পেলেই দোকান বসাচ্ছেন হকাররা
  • ফুটপাত ফাঁকা রাখতে তৎপর পুলিশ
  • স্থায়ী সমাধান চান হকার নেতারা
সাখাওয়াত ফাহাদ, ঢাকা 
উচ্ছেদ অভিযান: গুলিস্তানে ফুটপাত ঘিরে ‘হকার-পুলিশ’ খেলা
উচ্ছেদের পর ফুটপাত দখল করে ফের বসানো হয়েছে দোকানপাট। গতকাল রাজধানীর গুলিস্তানে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালালেও সপ্তাহ না পেরোতেই আবার দোকান বসতে শুরু করেছে। ফুটপাতগুলোতে দেখা গেছে ‘হকার-পুলিশ’ খেলা। একদিকে সুযোগ পেলেই অস্থায়ী পাটাতন দিয়ে দোকান বসাচ্ছেন হকাররা; অন্যদিকে ঘুরে ঘুরে সেসব উঠিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গুলিস্তানের বিভিন্ন ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশ দোকান সরাচ্ছেন, তবে গোলাপশাহ মাজারের পাশে ফুটপাতে হকাররা বসে পড়েছেন। আবার স্টেডিয়ামের গেটে পুলিশ থাকায় সেখানে দোকান বন্ধ; তবে গুলিস্তান মোড়ে রাস্তা-ফুটপাতে দোকান বসানো হয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, হকি স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে অস্থায়ী পাটাতনে দোকান বসাতে শুরু করেন হকাররা। বেশ কয়েকজনকে দোকান বসিয়ে বেচাকেনা শুরু করতেও দেখা গেছে। এ সময় এক হকার জানান, এখানে দোকান ছাড়া তাঁর আয়ের আর কোনো পথ নেই। তাই ঝুঁকি নিয়েই ফুটপাতে দোকান বসিয়েছেন।

আধা ঘণ্টা পর একই রাস্তায় এসে দেখা যায়, ফুটপাতে বসানো দোকানগুলো পুলিশ আবারও বন্ধ করে দিয়েছে। হকারদের অস্থায়ী পাটাতনগুলো রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে পড়ে রয়েছে। এ সময় হকারদের পুলিশের কাছে ‘দোকান বসানোর’ অনুরোধ করতেও দেখা যায়।

বেলা ২টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকার ফুটপাতে বেশ কয়েকজন হকারকে দোকান বসিয়ে কেনাবেচা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই এক পুলিশ সদস্যকে টানানো চাদর খুলে তাদের সেখান থেকে উঠিয়ে দিতে দেখা গেছে। এ সময় অন্য হকারদেরও দোকান না বসাতে সতর্ক করছিলেন ওই পুলিশ সদস্য।

ওই পথে চলাচলকারী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বলছেন, মাসের শুরুতে হকারদের উচ্ছেদের পর থেকেই এই ‘হকার-পুলিশ’ খেলা চলছে। গুলিস্তানের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পুলিশ একদিকে গেলে অন্যদিকে দোকান বসে। আবার সেদিকে পুলিশ গেলে এদিকে দোকান বসে। তবে আগের চেয়ে গুলিস্তানের পরিবেশ এখন অনেক ভালো। আগে ফুটপাত তো আছেই, রাস্তাও অর্ধেক বন্ধ থাকত। এখান ফুটপাতে অন্তত হাঁটা যায়। যানজটও আগের চেয়ে অনেক কম।’

বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকায় এক পথচারী বলেন, ‘দেখেন কত বড় ফুটপাত। অথচ এখান দিয়ে কখনোই হাঁটতে পারতাম না, রাস্তা দিয়ে যাইতে হইত।’ পরে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররমের সোনার মার্কেটের পাশে প্রায় ৮ ফুট চওড়া ফুটপাত রয়েছে। তবে এই ফুটপাতের দুই পাশের ৩ ফুট করে ৬ ফুট জায়গায়ই হকারদের দখলে ছিল।

হকার নেতারা বলছেন, এই উচ্ছেদে লাখ লাখ হকার পথে বসার অবস্থা হয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে হকাররা ঋণ করে নতুন মালপত্র উঠিয়েছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে লাখ লাখ হকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবিলম্বে চলমান সংকটের সমাধান চান হকার নেতারা।

হকারদের বিক্ষোভ

এদিকে গতকাল সকালে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রণয়ন লাইসেন্স প্রদানসহ সড়ক-ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে হকারদের সংগঠন বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। পরে ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। মিছিলটি কদম ফোয়ারা এলাকায় গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেয়।

ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গুলিস্তান, পল্টন ও আশপাশের এলাকায়ও বিক্ষোভ করেন হকাররা।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন বলেন, আগে হকারদের পুনর্বাসন, হকার মার্কেটের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও হকার সংকটের সমাধান হয়নি। হকাররাও আর এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে চান না।

জসিম উদ্দীন বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে লাইসেন্স দেওয়া হবে। আমরা চাই দ্রুত লাইসেন্স দিয়ে হকারদের সংকট সমাধান করা হোক। কারও সুযোগ থাকলে সে রাস্তায় হকারি করে না।’

ডিএমপির (ট্রাফিক) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আজকে সাড়ে ৩টার পরও অনেকে (হকার) বসা ছিল। আমরা বিষয়টি লক্ষ্য করছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা না থাকলে বসার চেষ্টা করছে; কিন্তু আমরা তো বসতে দিচ্ছি না।’

এর আগে গত বুধবার এক কর্মসূচিতে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হবে। পুলিশের সহায়তায় হকারদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থান, সময় ও সংখ্যার ভিত্তিতে হকারদের বসার অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা আনতে জরিপ কার্যক্রম চলছে এবং ‘হলিডে’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত