Ajker Patrika

ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন র‍্যাব কর্মকর্তা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। চক্রটি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই বিভিন্ন কৌশলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে র‍্যাব-৪ কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. এজাজুল হক রতন (৬৩), মোছা. নার্গিস বেগম (৪০) ও মো. বাদল (৫৫)।

র‍্যাব জানায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তি মানব পাচারকারী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে তাদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে ওই ব্যক্তি ডিএমপির শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে র‍্যাব-৪-এর একটি আভিযানিক দল গত শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে কর্মরত। কয়েক বছর আগে গ্রেপ্তার নার্গিস ও বাদল তাঁর বাড়ির পাশে বসবাস শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাঁরা ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের পরিচিত এজেন্টের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে ইমরানকে চক্রের মূল হোতা এজাজুল হক রতনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তাঁরা।

র‍্যাব জানায়, রতন ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইমরানকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করেন। এতে সম্মতি দিলে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ইমরান মিরপুরে রতনের অফিসে গিয়ে প্রথমে নগদ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পর রতন দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, ইতালি সরকার নতুন লোক নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে পাঠানো সম্ভব হবে না। এরপর ইমরানকে জার্মানি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু এক মাস পর তাঁর কাগজপত্রে ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে জার্মানিতেও পাঠানো সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

পরবর্তীতে কানাডা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিসা, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমানের টিকিটের খরচের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরও ১১ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এভাবে ধাপে ধাপে মোট ২০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাঁকে কোনো দেশেই পাঠানো হয়নি। ভুক্তভোগী ইমরান গত জানুয়ারি মাসে রতনের অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, কয়েক মাস আগেই অফিসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানতে পারেন, তার মতো আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি।

র‍্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি বলেন, এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার আরও কয়েকজনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত